ইয়েমেন-সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুর কবলে দুই মালবাহী জাহাজ, বন্দি ২২ ভারতীয়!

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইয়েমেন (Yemen) ও সোমালিয়ার (Somalia) উপকূল ঘিরে ফের জলদস্যু হামলার (Pirates Attack) ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ল। পরপর দু’টি মালবাহী জাহাজে হামলা চালানোর খবর সামনে এসেছে। একটি জাহাজে ছিল অস্ত্রের চালান, অন্যটিতে তেল। প্রথম জাহাজের নাবিকদের বন্দি করে নিয়ে যাওয়ার খবর মিললেও দ্বিতীয় জাহাজের সমস্ত কর্মী নিরাপদে রয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। দুই ঘটনায় মোট ২২ জন ভারতীয় ক্রু সদস্যের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে প্রথম জাহাজে ছিলেন ছ’জন ভারতীয় এবং দ্বিতীয় জাহাজে ১৬ জন। প্রথম জাহাজের ভারতীয় নাবিকদের বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত তথ্য না মেলায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঘটনাগুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ইয়েমেন-সোমালিয়ার উপকূলে দুটি জাহাজে জলদস্যুদের হামলায় (Pirates Attack) চাঞ্চল্য

প্রথম হামলার ঘটনা সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড উপকূলে। ক্যামেরুনের পতাকাবাহী ওই মালবাহী জাহাজটি তুরস্কের টেকিরদাগ বন্দর থেকে অস্ত্র নিয়ে তানজানিয়ার দার এস সালামের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটিতে মোট ১০ জন কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছ’জন ভারতীয় ছাড়াও এক জন তুর্কি, এক জন জর্জিয়ান এবং দু’জন সার্বিয়ান নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পন্টল্যান্ডের ইল জেলার মারাইয়া উপকূল থেকে প্রায় সাড়ে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে আট জন সশস্ত্র জলদস্যু জাহাজটিতে উঠে পড়ে। এরপর নাবিকদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জাহাজটি নিজেদের দখলে নেয় তারা। পরে নাবিকদের নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। তবে তাঁদের সঙ্গে পরবর্তীতে কী হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: শাপে বর, নিম্নচাপ কাটতেই টন টন ইলিশ ওঠার সম্ভাবনা, আশায় বুক বাঁধছেন মৎস্যজীবীরা

জাহাজটির মালিকানা Polar Movement Shipping নামে একটি সংস্থার বলে জানা গিয়েছে। তাতে মোগাদিশুর একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ছিল বলে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। সেই অস্ত্রই জলদস্যুদের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অস্ত্রের চালান থাকায় ঘটনাটি সাধারণ জলদস্যু হামলার তুলনায় আরও উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনও তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটেছে এডেন উপসাগরে। ইয়েমেনের উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী M.T. Sibu 1 নামে একটি তেলবাহী জাহাজে ছ’জন জলদস্যু হামলা চালায় বলে জানা গিয়েছে। জাহাজটিতে মোট ২০ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়। তবে এই ঘটনায় পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাবে স্বস্তিদায়ক। ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জাহাজের প্রত্যেক কর্মীই নিরাপদে রয়েছেন। ভারতীয়দের পাশাপাশি সিরিয়া, সুদান ও ইরাকের নাগরিকরাও ওই জাহাজে ছিলেন। আরও এক নাবিকের নাগরিকত্ব এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

Sensation caused by pirates attack on two ships off the coasts of Yemen and Somalia.

আরও পড়ুন: সিম কার্ডে ‘লিমিট’ বেঁধে দিল কেন্দ্র! ৯-এর বেশি হলে এবার পড়বে কোপ

পরপর এই দুই ঘটনার পর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার যাবতীয় তথ্য e-Navik অনলাইন মেরিটাইম ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেমে নিয়মিত আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। SKS Krishiv Marine Services-এর সুমিত কান্ত সিং জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থার মাধ্যমে দ্বিতীয় জাহাজের চার জন কর্মী নিয়োগ পেয়েছিলেন এবং তাঁদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রথম জাহাজের ছ’জন ভারতীয় নাবিকের খোঁজ ও নিরাপত্তা নিয়ে অপেক্ষা বাড়ছে। দুই ঘটনার পরিস্থিতি আলাদা হলেও ইয়েমেন-সোমালিয়া সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জলদস্যুদের সক্রিয়তা যে এখনও বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, তা ফের স্পষ্ট হয়ে উঠল (Pirates Attack)।