চাকরি, অভাব, অসুস্থতা—কিছুই থামাতে পারেনি! সব বাধা পেরিয়ে UPSC-তে 107 স্থান পেয়ে IAS হলেন অংশুমান

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজকের সাফল্যের গল্প (Success Story) বিহারের (Bihar) বক্সার জেলার নওয়ানগর গ্রামের অংশুমান রাজের (Anshuman Raj)। তাঁর ছোটবেলার দিনগুলি কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্যেই। গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত বিদ্যুৎ থাকত না, যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল সীমিত। ফলে পড়াশোনার সময় অনেক রাতেই কেরোসিনের বাতিই ছিল তাঁর একমাত্র ভরসা। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতি তাঁর স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। বরং সেই অভাবই তাঁকে আরও দৃঢ় করে তুলেছিল। ২০১৯ সালের UPSC-তে All India Rank 107 করে শেষ পর্যন্ত IAS হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি। তবে এই সাফল্যের গল্প শুধুমাত্র একজন পরীক্ষার্থীর অধ্যবসায়ের নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গোটা পরিবারের দীর্ঘ লড়াই।

অংশুমান রাজের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

অংশুমানের পরিবারে আর্থিক সমস্যা আরও গভীর হয় ২০০২ সালে, যখন তাঁর বাবার চালকলের ব্যবসায় বড় ক্ষতি হয়। পরে তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংসারের দায়িত্ব তখন মূলত এসে পড়ে তাঁর মায়ের কাঁধে। মা ছিলেন ‘শিক্ষা মিত্র’ এবং মাসে প্রায় ১৫০০ টাকা আয় করতেন। সেই সামান্য আয়ের পাশাপাশি সংসার চালাতে একটি ছোট বিউটি পার্লারও পরিচালনা করতেন তিনি। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে অংশুমানও বুঝতেন, তাঁর সাফল্যের (Success Story) সঙ্গে পরিবারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই জড়িয়ে রয়েছে। তাই IAS হওয়া তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত স্বপ্ন ছিল না, ছিল কঠিন বাস্তবতা বদলে দেওয়ার একটি লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তে আর হুড়োহুড়ি নয়, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগেই চেক করুন কোন প্ল্যাটফর্মে ঢুকবে ট্রেন

২০১৩ সালে স্নাতক হওয়ার পর অংশুমান হংকংয়ের একটি সংস্থায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করেন। চাকরির কারণে টানা প্রায় ছয় মাস তাঁকে জাহাজে থাকতে হত। অনেক সময় ইন্টারনেটের সুবিধাও পাওয়া যেত না। ছয় মাস কাজ করার পর প্রায় তিন মাসের ছুটি মিলত, আর সেই সময়টুকুই UPSC প্রস্তুতির জন্য কাজে লাগাতেন তিনি। দিল্লিতে গিয়ে নামী কোচিং করার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। তার উপর প্রায় ৩০ জনের যৌথ পরিবারে পড়াশোনার জন্য নিরিবিলি পরিবেশ পাওয়াও কঠিন ছিল। তাই ছুটির সময়ে ভাইয়ের কাছে হলদিয়ায় গিয়ে মন দিয়ে প্রস্তুতি নিতেন। এভাবেই চাকরি ও পড়াশোনাকে পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়ার লড়াই শুরু হয়।

UPSC-র পথও অবশ্য মসৃণ ছিল না। ২০১৬ সালে প্রথমবার Preliminary পরীক্ষায় সফল হলেও Mains-এ সামান্য ব্যবধানে আটকে যান অংশুমান। পরের বছর আবার চেষ্টা করে মেইন্স পেরিয়ে ইন্টারভিউয়ের-র দরজায় পৌঁছন। কিন্তু তখন কাজের সূত্রে তিনি ব্রাজিলে ছিলেন এবং ইন্টারভিউ প্রস্তুতির জন্য হাতে ছিল মাত্র কয়েক সপ্তাহ। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টাতেও সাফল্য আসেনি। ২০১৮ সালের পরীক্ষার আগে আবার বড় ধাক্কা আসে। মেইন্সের প্রায় এক মাস আগে অ্যাপেন্ডিসাইটিস-এ আক্রান্ত হন তিনি। প্রচণ্ড ব্যথা ও বমির মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অস্ত্রোপচার করান। সেই বছরই অবশ্য UPSC-তে সফল হয়ে IRS-এ নির্বাচিত হন। কিন্তু লক্ষ্য তখনও IAS। তাই নতুন চাকরি পেয়েও থামেননি।

Success Story of Anshuman Raj will Surprise you.

আরও পড়ুন:অবশেষে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কড়া হলো FIFA! ১০ ম্যাচের জন্য নির্বাসিত মেসির এই সতীর্থ, দিতে হবে বিশাল অঙ্কের টাকা

IRS-এ সুযোগ পাওয়ার পরও অংশুমান ফের UPSC-তে বসেন। এবার লক্ষ্য ছিল আরও ভালো ফল এবং IAS ক্যাডারে জায়গা করে নেওয়া। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল মেলে। AIR 107 নিয়ে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য (Success Story) পান তিনি। কেরোসিনের আলোয় পড়াশোনা করা গ্রামের সেই তরুণ পৌঁছে যান দেশের প্রশাসনিক পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ স্তরে। তাঁর যাত্রার সবচেয়ে বড় বার্তা হয়তো এটাই—সাফল্যের জন্য সবসময় আদর্শ পরিবেশ, দামি কোচিং বা প্রচুর সময়ের প্রয়োজন হয় না। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সময়কে কাজে লাগানো, ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করা এবং লক্ষ্য থেকে সরে না যাওয়ার মানসিকতাই শেষ পর্যন্ত পথ তৈরি করতে পারে। অংশুমান রাজের গল্প তাই শুধু UPSC সাফল্যের কাহিনি নয়, প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।