বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য সরকারি কর্মীদের পেনশন (Pension) প্রক্রিয়ায় এবার বড়সড় পরিবর্তন আনছে সরকার। পেনশন সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে দফতরে দফতরে ঘোরাঘুরি কমাতেই পুরো ব্যবস্থাকে আরও বেশি ডিজিটাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরে পেনশনের যাবতীয় ফাইল ই-পেনশন মডিউলের মাধ্যমেই পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
পেনশন (Pension) প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ
নতুন নিয়ম চালু হলে পেনশন সংক্রান্ত কাজের ক্ষেত্রে দফতর অনুযায়ী আলাদা পদ্ধতি অনুসরণের সুযোগ আর থাকছে না। এবার ফাইল পাঠানো, তথ্য যাচাই এবং পেনশন মঞ্জুরির মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলিকে একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এই নিয়মের আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পেনশন সংক্রান্ত বিষয়। রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পেনশন সংক্রান্ত বিষয় বাধ্যতামূলক নয়। নতুন ব্যবস্থায় কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পেনশন সংক্রান্ত তথ্যের নিরাপত্তার দিকটিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ই-পেনশন পোর্টালে একাধিক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উদ্দেশ্য, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাতে কোনও অননুমোদিত ব্যক্তির হাতে না যায় বা অপব্যবহার না হয়।
এই পোর্টালে চালু করা হয়েছে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’। অর্থাৎ, শুধুমাত্র ইউজ়ার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করা যাবে না। তার সঙ্গে নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর এবং ই-মেল ঠিকানায় পাঠানো ওটিপি দিয়েও পরিচয় যাচাই করতে হবে। ফলে পোর্টালে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।
পেনশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে আপলোড করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর ফলে নথি পাঠানো এবং যাচাইয়ের কাজ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি কোনও পেনশন ফাইল বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে, তার উপরও নজরদারি চালানো যাবে সহজে। এতে ফাইল অকারণে আটকে থাকার প্রবণতা কমবে এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও স্বচ্ছ হবে।

আরও পড়ুন :বাড়ি বসেই আয়ুষ্মান কার্ডে পরিবারের সদস্যের নাম যোগ করুন! রইল গাইড
সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো নয়, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করাও। পেনশন পাওয়ার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় দেরি হলে একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তাই ফাইলের গতিবিধি সহজে নজরে রেখে দ্রুত নিষ্পত্তির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন ই-পেনশন ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তি করতে পারে এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের অপেক্ষার সময় কতটা কমাতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সফল হলে রাজ্যের পেনশন ব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিবর্তন হয়ে উঠতে পারে।













