বাংলাহান্ট ডেস্ক: এবার ভারতীয় সেনায় আসছে ‘ শের’ (Sher Assault Rifle) প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে ভারতের পথচলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য সামনে এল। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় উত্তরপ্রদেশের আমেঠির কোরওয়া অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি হয়েছে দেশের (India) প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় AK-203 অ্যাসল্ট রাইফেল। ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেড বা IRRPL-এর উদ্যোগে তৈরি এই রাইফেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘শের’। সংস্থার দাবি, রাইফেলটির প্রথম পরীক্ষামূলক ফায়ারিংও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৯ সালে ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে এই রাইফেল উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্পই এবার সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদনের নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ভারতীয় সেনার শক্তি বাড়াতে প্রস্তুত ১০০ শতাংশ স্বদেশি শের অ্যাসল্ট রাইফেল (Sher Assault Rifle):
এই সাফল্যের বিশেষত্ব শুধু রাইফেলটি ভারতে তৈরি হয়েছে, এতেই সীমাবদ্ধ নয়। IRRPL-এর সিইও ও এমডি মেজর জেনারেল এস কে শর্মা জানিয়েছেন, ‘শের’ (Sher Assault Rifle) -এর প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় সংস্করণে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলির কাছ থেকেই নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাইফেলের কয়েকটি অংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি করা নয়, বরং পুরো অস্ত্রটির দেশীয়করণের লক্ষ্যেই কাজ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম দেশীয় AK-203-এর বার্স্ট ফায়ারিং-সহ পরীক্ষাও সফল হয়েছে এবং প্রাথমিক ফলাফল যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। এই সাফল্যকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির বাস্তব প্রয়োগের অন্যতম উদাহরণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
AK-203 হল ৭.৬২x৩৯ মিমি ক্যালিবারের গ্যাস-চালিত অ্যাসল্ট রাইফেল। কালাশনিকভ প্ল্যাটফর্মের পরিচিত নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে এতে আধুনিক ডিজাইন, উন্নত আর্গোনমিক্স, মডিউলার অ্যাকসেসরি রেল এবং নির্ভুল নিশানা করার সুবিধা রয়েছে। রাইফেলটির ফায়ারিং রেট প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০০ রাউন্ড এবং কার্যকর পাল্লা প্রায় ৮০০ মিটার পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুরনো INSAS রাইফেলের পরিবর্তে এই প্ল্যাটফর্মকে ধীরে ধীরে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে ছয় লক্ষেরও বেশি AK-203 রাইফেল সরবরাহের চুক্তি ও উৎপাদন পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই রয়েছে।
তবে সম্পূর্ণ দেশীয় সংস্করণের যাত্রা এখনও পরীক্ষার পর্যায়েই রয়েছে। মেজর জেনারেল শর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সংখ্যায় দেশীয় প্রোটোটাইপ তৈরি করা হচ্ছে এবং সেগুলি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনীর কাছে পরীক্ষার জন্য দেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ের উৎপাদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে আমেঠির কারখানায় প্রথম ‘শের’-এর সফল ফায়ারিং নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও, বড় আকারে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির আগে আরও কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে।

আরও পড়ুন: ২৪ জন নাবিক নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবল পণ্যবাহী জাহাজ! খোঁজ মিলল ২ জনের, চলছে উদ্ধারকাজ
উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে IRRPL। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই প্রতি ১০০ সেকেন্ডে একটি করে AK-203 তৈরি করার সক্ষমতায় পৌঁছনোর লক্ষ্য রয়েছে। উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নতি, দেশীয় যন্ত্রাংশের ব্যবহার এবং কারখানার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রায় এক বছরের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে প্রায় ছয় লক্ষ রাইফেল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ‘শের’ (Sher Assault Rifle)-এর সফল পরীক্ষাকে শুধু একটি নতুন রাইফেলের আত্মপ্রকাশ হিসেবে নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও দেশীয় ও শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।













