অপারেশন সিঁদুরের পর ফের মাথা তুলছে জঙ্গিঘাঁটি! জইশের সদর দফতর পুনর্নির্মাণে সাহায্য পাকিস্তানের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরে ভারতের (India) হামলায় ধ্বংস হয়েছিল পাকিস্তানের (Pakistan) পঞ্জাব প্রদেশের ভাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। সেই ঘটনার প্রায় ১৫ মাস পর ফের মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে ওই জঙ্গি সংগঠনের সদর দফতর। সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভাওয়ালপুরের মারকাজ সুবহান আল্লাহ কমপ্লেক্সের পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকাশ্যে আসা ছবিতে দেখা গিয়েছে, ভবনের বিভিন্ন অংশে নতুন করে মার্বেল বসানো হয়েছে। রং ও প্লাস্টারের কাজও সম্পূর্ণ করা হয়েছে। ভারতের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত গম্বুজগুলি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে কমপ্লেক্সের সেন্ট্রাল হলও।

জইশের সদর দফতর পুনর্নির্মাণে সাহায্য পাকিস্তানের (Pakistan)

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি উঠেছে এই পুনর্নির্মাণের অর্থের উৎস নিয়ে। গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে ‘ইন্ডিয়া টুডে’ জানিয়েছে, জইশ-ই-মহম্মদের এই ঘাঁটি নতুন করে তৈরি করতে পাকিস্তান সরকার নাকি ২৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেন্ট্রাল হল পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় ১১ কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কমপ্লেক্সের পুরনো ধ্বংসাবশেষও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি মূল কাঠামোর কিছু অংশে নতুন করে নির্মাণকাজ চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এই অর্থ দেওয়ার দাবির বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের কোনও স্বাধীন সরকারি নিশ্চিতকরণ প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন:অরুণাচল নিয়ে চলছে চাপানউতর! চিন সফরে যাচ্ছেন অজিত ডোভাল, বসবেন বিশেষ বৈঠকে

ভাওয়ালপুরের এই কমপ্লেক্সটি জইশ-ই-মহম্মদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মারকাজ সুবহান আল্লাহ প্রায় ১৮ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অভিযোগ, এই ঘাঁটি শুধুমাত্র সংগঠনের প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হত না, জঙ্গি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং উগ্রপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত করার মতো কাজেও এর ভূমিকা ছিল। বিশাল এই কমপ্লেক্সের মধ্যে একটি মসজিদও রয়েছে। ফলে পুনর্নির্মাণের খবর সামনে আসার পর পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গি সংগঠনগুলির পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৫ সালের ৬-৭ মে-র মধ্যবর্তী রাতে এই ঘাঁটিই ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অন্যতম লক্ষ্য হয়েছিল। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর জইশ-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। ভারতের দাবি ছিল, লক্ষ্য ছিল জঙ্গি পরিকাঠামো এবং তাদের প্রশিক্ষণ ও পরিকল্পনার কেন্দ্রগুলি। ওই অভিযানে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার না করে নিজেদের ভূখণ্ড থেকেই দূরপাল্লার অস্ত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ভাওয়ালপুরের জইশ ঘাঁটিও সেই অভিযানে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যায়।

Pakistan helps rebuild Jaish headquarters.

আরও পড়ুন: শুরু কাউন্টডাউন! ৪ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে গগনযানের প্রথম মানববিহীন মিশন, কী জানাল ISRO?

এখন সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত পরিকাঠামোই ফের গড়ে ওঠার খবর সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সামরিক অভিযানের পরেও যদি জইশ-ই-মহম্মদের মতো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করা হয়ে থাকে, তা হলে পাকিস্তানের জঙ্গি দমন নীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিশেষ করে পুনর্নির্মাণে সরকারি অর্থ ব্যবহারের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও এই দাবির পূর্ণ সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি, তবু খবরটি ভারত-পাকিস্তান (Pakistan) নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। অপারেশন সিঁদুরের পর ধ্বংস হওয়া ঘাঁটি ফের তৈরি হওয়ার এই ঘটনা সীমান্তপারের জঙ্গি পরিকাঠামো নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগকেই আবার সামনে নিয়ে এল।