ভারতের শেয়ার বাজারে ফের বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার! এক মাসেই এল ২৩,৫৪৪ কোটি

Published on:

Published on:

Huge Foreign Portfolio Investors investment in the Share Market.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতীয় শেয়ার বাজারের প্রতি ফের ভরসা প্রদর্শন করল বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। যারা ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টরস (Foreign Portfolio Investors Investment) তথা FPI হিসাবেও পরিচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অগাস্ট মাসে এখনও পর্যন্ত এই বিনিয়োগকারীরা বিপুল পরিমাণে ২৩,৫৪৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই প্রবণতা রাতারাতি বদলায়নি। এর আগে, জুলাই মাসে তারা বাজারে (Share Market) ২০,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। এদিকে, সামগ্রিকভাবে এই বিনিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এর আগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা টানা ৪ মাস ধরে ভারতীয় (India) বাজার থেকে বিপুল পরিমাণে শেয়ার বিক্রি করেছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে তারা সর্বাধিক পরিমাণ, অর্থাৎ ১.১৭ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছিল।

ভারতের শেয়ার বাজারে ফের বিদেশি বিনিয়োগের (Foreign Portfolio Investors Investment) জোয়ার!

FPI ২.৩ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নেয়: জানিয়ে রাখি যে, FPI দ্বারা গত এপ্রিলে ৬০,৮৪৭ কোটি টাকা, মে মাসে ৩২,৯৬৩ কোটি টাকা এবং জুন মাসে ৪৯,৩৪০ কোটি টাকার উল্লেখযোগ্য উত্তোলন হয়। এই বছরের শুরুতে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে, তারা ২২,৬১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল। এদিকে, কয়েক মাস ধরে ব্যাপক বিক্রির পর, জুলাই ও আগস্টের ক্রয় বাজারে নতুন আশা জাগিয়েছে। তবে, এটি লক্ষণীয় যে, উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ সত্ত্বেও, ২০২৬ সালে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সামগ্রিকভাবে বিক্রেতা হিসাবেই বিবেচিত হয়েছে। তারা এখনও পর্যন্ত প্রায় ২.৩ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। যা ২০২৫ সালে মোট ১.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা তোলার চেয়েও অনেক বেশি।

 Huge Foreign Portfolio Investors investment in the Share Market.

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব কেন বদলে গেছে: এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে যে, হঠাৎ কী কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবার ভারতের দিকে মনোযোগ দিল? TV 9-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, জিওজিত ইনভেস্টমেন্টস-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভিকে বিজয়কুমারের মতে, এর নেপথ্যে বেশ কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, প্রথম ত্রৈমাসিকের (Q1) ফলাফলে কর্পোরেট আয়ে একটি উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধার দেখা গেছে। এছাড়াও, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ‘চিপ ট্রেড’ থেকে তাদের অর্থ তুলে নিচ্ছে। ভারতীয় রুপিও আরও স্থিতিশীল হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। তাছাড়া, এই বিশাল বাজারে কোম্পানিগুলির শক্তিশালী বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তাদেরকে ভারতের দিকে আকৃষ্ট করছে।

আরও পড়ুন: বন্ধ বাড়ি থেকে উদ্ধার একের পর এক মৃতদেহ! বাংলাদেশে হিন্দু পরিবারের ৪ সদস্যের রহস্যমৃত্যু

জানিয়ে রাখি যে, সাধারণত, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাজারে ফিরে আসে, তখন তারা বড় আইটি কোম্পানি বা বড় ব্যাঙ্কগুলির ওপর মনোযোগ দেয়। তবে, এবারের কৌশলটি কিছুটা ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে। বিজয়কুমার ব্যাখ্যা করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে আকর্ষণীয় ভ্যালুয়েশন থাকা সত্ত্বেও বড় ব্যাঙ্কিং বা আইটি সেক্টরের স্টকগুলি এড়িয়ে চলছে। এর পরিবর্তে, তারা বেছে বেছে মিড-ক্যাপ কোম্পানিগুলির শেয়ার কিনছে। যদিও সেগুলির ভ্যালুয়েশন বর্তমানে কিছুটা বেশি বলে মনে হচ্ছে। এই কৌশলটি মিড-ক্যাপ কোম্পানিগুলিতে ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জনের বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত করছে। এদিকে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ঋণ বাজারেও আগ্রহ দেখিয়েছেন। তারা ‘ফুললি অ্যাক্সেসিবল রুট’ (FAR)-এর মাধ্যমে ৮৫২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং সাধারণ রুটের মাধ্যমে ৯৯৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে।

আরও পড়ুন: হকি বিশ্বকাপে তারকাদের ভিড়! ভারতের ম্যাচ দেখতে উপস্থিত রাহুল দ্রাবিড়, স্টিভ ওয়া ও অভিষেক বচ্চন

উল্লেখ্য যে, শেয়ার বাজারের গতিপথ সবসময়ই অনেক বাহ্যিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়। টিভি 9-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে বাজাজ ব্রোকিং-এর ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট রিসার্চ পবিত্র মুখার্জি জানিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহে বিনিয়োগকারীরা অপরিশোধিত তেলের দামের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখবে। এছাড়া, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এদিকে, বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ভারতীয় বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।