বাংলা হান্ট ডেস্ক : রেশন দুর্নীতি (Ration Scam) নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও পরিবহণের ব্যবস্থায় একের পর এক অসঙ্গতির উল্লেখ রয়েছে ক্যাগের রিপোর্টে। কোথাও অ্যাম্বুল্যান্সে করে ধান পৌঁছেছে, কোথাও আবার বিলাসবহুল ক্যাব কিংবা বাস। বিপুল পরিমাণ ধানের কোনও যথাযথ হিসাবও মেলেনি।
রেশন দুর্নীতি (Ration Scam) নিয়ে ক্যাগ রিপোর্টে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য
রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের খাদ্যবণ্টন ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এবার ক্যাগের অডিট রিপোর্টে ধান কেনা ও পরিবহণের ক্ষেত্রে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে সেই বিতর্ক আরও জোরাল হল।
রিপোর্ট বলছে, ২০২০ এবং ২০২১ অর্থবর্ষে বেনফেডের ধান পরিবহণের ক্ষেত্রে এমন কয়েকটি গাড়ির নম্বর পাওয়া গিয়েছে, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। ওই দুই অর্থবর্ষে যথাক্রমে দু’টি এবং তিনটি এমন নম্বরের সন্ধান মিলেছে, যেগুলির মাধ্যমে অ্যাম্বুল্যান্সে ধান পরিবহণের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। শুধু অ্যাম্বুল্যান্সই নয়, ধান বহনের কাজে বিলাসবহুল ক্যাব এবং বাস ব্যবহারের তথ্যও উঠে এসেছে। ক্যাগের হিসাবে, ৪ হাজার ২১১ কুইন্টালেরও বেশি ধান নথিভুক্তই হয়নি। একাধিক ক্ষেত্রে ভুয়ো কিংবা একই নম্বরের পুনর্ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে এত বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের প্রকৃত গন্তব্য নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
ক্যাগের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ধান পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত ১৯টি গাড়ির বৈধ নথিভুক্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। ছয়টি তিন চাকার গাড়িতে ১ হাজার ১৫৯ কুইন্টাল ধান পরিবহণ দেখানো হয়েছে। আর দুটি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে পরিবহণের হিসাব রয়েছে ১ হাজার ৭৬৪ কুইন্টাল ধানের। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠছে, এত পরিমাণ সরকারি ধান কীভাবে এমন যানবাহনে পরিবহণ করা হল এবং সেই প্রক্রিয়ার নজরদারি কোথায় ছিল? শুধু পরিবহণ নয়, ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রেও অনিয়মের ছবি ধরা পড়েছে।
উল্লেখ্য, ১০ জনের নামে ৫৯টি এন্ট্রি রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের নামে মোট ২ হাজার ৫৬৮ কুইন্টাল ধান সংগ্রহের হিসাব রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৪৪.৯৪ লক্ষ টাকা। এই তালিকায় দুজন রাইস মিল মালিকের নামও রয়েছে। তাঁদের পরিবারের আরও ২১ জন সদস্যের নামে ৩ হাজার ৮২১ কুইন্টাল ধানের হিসাব পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, আরও ৯৭টি এন্ট্রি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অডিট রিপোর্ট। বাস্তবে ধান বিক্রি না করেও সরকারি নথিতে তাঁদের নাম কীভাবে এল, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন : মেয়ের পড়াশোনায় মাসে ৫০০ টাকা! CBSE-র এই স্কলারশিপে কারা পাবেন সুবিধা?
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হওয়ার পরেও এই ধরনের ভুয়ো এন্ট্রি বন্ধ হয়নি। ফলে শুধু কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়, গোটা প্রক্রিয়াতেই বড় ধরনের গরমিল ছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তানীয়া বলেন, “বিগত সরকার লুঠপাট করেছে। এখন হিসেব মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে কোনও মিলে দশ হাজার, কোনও মিলে বিশ হাজার কুইন্টাল ধান কম। এই দুর্নীতি শুধু রেশনে নয়, অন্যান্য সব জিপার্টমেন্টই এমন দুর্নীতি হয়েছে।”













