ইরানের সঙ্গে তেল বাণিজ্যে যুক্ত থাকার ‘শাস্তি’! ভারতের ৪ সংস্থা ও ৩ শিল্পপতির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

Published on:

Published on:

US sanctions imposed on 4 companies and 3 industrialists of India for trading with Iran.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরানের (Iran) সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখায় এবার ট্রাম্পের নিশানায় ভারত (India)। সংস্থা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নিল আমেরিকা (America)। তেহরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে একসঙ্গে প্রায় ৬০টি ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছে ভারতের চারটি সংস্থা এবং তিন জন নাগরিকও। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এই সংস্থা ও ব্যক্তিরা ইরান থেকে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কেনা, আমদানি, পরিবহণ এবং বাণিজ্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত ছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য, ইরানের রাজস্বের উৎসে আঘাত করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করায় ভারতের (India) ৪ সংস্থা ও ৩ শিল্পপতির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা:

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে পোর্টিজ পার্টনার্স এলএলপি, সদাশিব ওভারসিজ লিমিটেড, পিপি সফটটেক এবং প্রাক্রুতিস ইনফ্রা ইম্পেক্স। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, পোর্টিজ পার্টনার্স একটি কাস্টমস ব্রোকার হিসেবে ভারতের (India) বাজারে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ঢোকাতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে সদাশিব ওভারসিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে তারা প্রায় ৬৯ মিলিয়ন ডলারের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করেছে। বাকি দুই সংস্থার বিরুদ্ধেও মোট প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় সংস্থাগুলির বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন: বন্ধ হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনা? সাড়ে ৪ লক্ষ অভিযোগের পর ৩১ আগস্টের পর আসবে বড় সিদ্ধান্ত! জানাল সরকার

শুধু সংস্থার বিরুদ্ধেই নয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে তিন ভারতীয় নাগরিককেও। তাঁরা হলেন পোর্টিজ পার্টনার্সের দুই অংশীদার হরিশ রামচন্দ্র রাঙ্গি ও ইন্দ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ এবং পিপি সফটটেকের প্রশান্ত গর্গ। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরান থেকে পণ্য সংগ্রহ ও তার পরবর্তী বাণিজ্যিক কার্যক্রমে তাঁদের ভূমিকা ছিল। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির মার্কিন বিচারব্যবস্থার আওতাধীন সম্পদ সাধারণ ভাবে ব্লক হয়ে যায় এবং মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের লেনদেনেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। ফলে সরাসরি মার্কিন বাজারে ব্যবসা না থাকলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমেরিকা যে আরও কঠোর হচ্ছে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহেই মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ রাখা দেশ এবং সংস্থাগুলিকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, তেহরানকে অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে শুধু আমেরিকান সংস্থাই নয়, তৃতীয় দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকেও ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

US sanctions imposed on 4 companies and 3 industrialists of India for trading with Iran.

আরও পড়ুন: আরজি কর কাণ্ডে নতুন মোড়! মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর বড় পদক্ষেপ সন্দীপ ঘোষের

তবে ভারতের (India) ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপের তাৎপর্য আরও বেশি, কারণ নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একই সময়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ভারতীয় সংস্থার নাম আসা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতি আরও সতর্ক ভাবে পর্যালোচনা করতে হতে পারে। ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ইরানের অর্থনীতিকে চাপে রাখতে তৃতীয় দেশের বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকেও আর ছাড় দিতে চাইছে না মার্কিন প্রশাসন।