বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় সংস্থার রিপোর্টে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার ভয়াবহ ছবি ফুটে উঠল। তৃণমূল আমলে বাংলার স্কুলশিক্ষার পরিকাঠামো কতখানি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে তা তুলে ধরল কেন্দ্রীয় সংস্থা ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট (UDISE+ Report)। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের ৪১৩৩টি স্কুল (School) পড়ুয়াশূন্য। আবার ৬৭৬৯টি স্কুলে মাত্র মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংস্থার রিপোর্টে শিক্ষাব্যবস্থার করুণ ছবি | (UDISE+ Report)
রিপোর্টে তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলার ৪১৩৩টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। অথচ সেখানে কর্মরত হিসেবে ১৯,৫০২ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে। এই স্কুলগুলির মধ্যে বেশিরভাগই বেসরকারি। কিছু কিছু সরকারি বিদ্যালয়ও রয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, যেখানে কোনও ছাত্রছাত্রীই নেই, সেখানে শিক্ষকদের কী কাজ? ওই স্কুলগুলি চালানোই বা কেন হচ্ছে?
আরও পড়ুনঃ ব্যারাকপুর থেকে কল্যাণী AIIMS অবধি মেট্রো? বিরাট বার্তা দিলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী
এই বিষয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, অনেক বেসরকারি স্কুল সঠিকভাবে তথ্য আপলোড করেনি। শিক্ষকদের তথ্য দিলেও ছাত্রছাত্রীদের তথ্য দেয়নি। ফলে বিদ্যালয়গুলি পড়ুয়াশূন্য দেখাচ্ছে। আমরা এই সমস্যা সমাধানে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া চেষ্টা করছি।
অন্যদিকে আবার কেন্দ্রীয় সংস্থার রিপোর্ট বলছে, বাংলার অন্তত ৬৭৬৯টি স্কুলে শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র একজন। এদিকে ওই বিদ্যালয়গুলিতে বর্তমানে ২ লক্ষ ২৯ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। অর্থাৎ একজন শিক্ষকই কয়েকশো পড়ুয়ার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
এই বিষয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বিগত ১৫ বছর দুর্নীতির কারণে কার্যত কোনও শিক্ষক নিয়োগই হয়নি। বর্তমানে আমরা সম্পূর্ণ সিস্টেম ঠিক করছি। এই বছরের শেষ অবধি সমস্যা মিটবে বলে আশা করছি।“

এই দুই বিষয়ের পাশাপাশি ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মোট ৯৩,১৪৭টি বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিন্যাসেও বৈষম্য রয়েছে। ৮ শতাংশ স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা ১০ জনের কম। আবার ৮.৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে ৫০০-র বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে।
এই বৈষম্যের দিকেও রাজ্য সরকারের নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তিনি বলেন, যেসব স্কুলে দরকারের থেকে বেশি শিক্ষক রয়েছে, সেখান থেকে শিক্ষকদের ট্রান্সফার করে কম শিক্ষক থাকা বিদ্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে।













