বাংলাহান্ট ডেস্ক: হিমালয়ের কোলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কার্যত বিপর্যস্ত নেপাল (Nepal)। মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের (Nepal Flash Floods) জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ১০৫ জন ভারতীয়-সহ প্রায় ৪০০ কৈলাসযাত্রী ও পর্যটক। জলের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে একের পর এক বাড়ি, সেতু এবং গাড়ি। কোথাও আবার গোটা এলাকা চলে গিয়েছে জলের তলায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার নামানো হয়েছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যার জল নিচের দিকে নামতে শুরু করায় নেপালের পাশাপাশি বিহার ও উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নেপালে হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) মৃত্যু মিছিল, নিখোঁজ ৪০০ কৈলাসযাত্রী সহ ১০৫ ভারতীয়
বিপর্যয়ের অন্যতম কেন্দ্র নেপালের রসুয়া জেলা। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরের এই এলাকার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকায় নেমে আসে ভয়াবহ হড়পা বান। মুহূর্তের মধ্যে নদীর জল ঢুকে পড়ে জনবসতিতে। জলের তোড়ে বহু বাড়ি ও যানবাহন ভেসে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং একটি সেতুও ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। প্রশাসনের তরফে দুর্গত এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসক, অ্যাম্বুল্যান্স এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও কাজে নামানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: AC-র কম্প্রেসার ফেটে পাকিস্তানের হাসপাতালে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড! মৃত অন্তত ১৫ নবজাতক
এই বিপর্যয়ের উৎস নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, চিনের তিব্বত অঞ্চলে জলস্তর বেড়ে যাওয়ার পর তার প্রভাব পড়ে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায়। চিনের সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বতের গাইরং প্রদেশ-সহ একাধিক এলাকাও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এত অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ জল নীচের দিকে নেমে এল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের মতে, রসুয়ায় শুধুমাত্র ভারী বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। ফলে তিব্বত থেকে জল নেমে আসার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনও হিমবাহ-সংলগ্ন জলাধার ভেঙে আকস্মিক জলপ্রবাহ বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
VIDEO | Nepal: Devastating flash flood causes major damage to markets and hydropower projects in Rasuwa region. More details are awaited.#NepalNews #NepalFlashFlood
(Source: Third Party)
(Full video available on PTI Videos – https://t.co/d8jp61yd2p) pic.twitter.com/QQmU1advuw
— Press Trust of India (@PTI_News) August 26, 2026
দুর্যোগের জেরে বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের খোঁজ মিলছে না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাশাপাশি রসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন কর্মী এবং আধাসেনার সাত জওয়ানেরও এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী মুগলিন-সহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: পুজোর থিমে মুখ্যমন্ত্রী! মণ্ডপে ফুটে উঠবে নন্দীগ্রাম থেকে নবান্নর সফর, রুবির পুজোয় বড় চমক
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নেপালের (Nepal Flash Floods) পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে ভারত। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে ভারত নেপালের মানুষের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমস্ত ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে দু’দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে নেপাল সরকারও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালাচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল, চিকিৎসক, স্কাউট এবং রেড ক্রসের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছেছেন। তবে বহু এলাকা এখনও দুর্গম থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।













