বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিপর্যয়ের জেরে নেপালে (Nepal Flash Floods) এখনও পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ। নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ১৩৩ জন ভারতীয় পর্যটকও। এবার ভারতেও (India) সতর্কবার্তা জারি। পাশাপাশি নেপালের সেনা, পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যেরও খোঁজ মিলছে না। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপাল সেনা, নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। উজানে নদীর গতিপথে কোথাও জল আটকে থাকায় ফের আচমকা জলোচ্ছ্বাস বা দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন। তাই নদীর পাড় এবং নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নেপালের হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) ভারতেরও বাড়ছে উদ্বেগ!
নেপাল (Nepal Flash Floods) থেকে ভারতের বিহারে প্রবেশ করা নদীগুলির মধ্যে গণ্ডক ও কোশী বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নেপালে জলস্তর হঠাৎ বেড়ে গেলে সেই জল নেমে এসে বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এই আশঙ্কায় পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, মুজফ্ফরপুর এবং বৈশালীতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা জলসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী বিজয় চৌধুরী জানিয়েছেন, নেপাল থেকে আসা জলের কারণে গণ্ডকের জলস্তর বাড়তে পারে। তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, নেপালের জল ত্রিশূলী নদী হয়ে দেবঘাটের দিকে এবং সেখান থেকে গণ্ডক নদী দিয়ে ভারতের দিকে নামতে পারে।
আরও পড়ুন: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু মিছিল! নিখোঁজ ৪০০ কৈলাসযাত্রী, সাহায্যের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী মোদীর
সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাল্মীকিনগর ব্যারাজ এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক আশঙ্কা, সর্বোচ্চ প্রায় ২.৫ লক্ষ কিউসেক জল সেখানে পৌঁছতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্যারাজের গেট খুলে অতিরিক্ত জল নিরাপদে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। যদিও বর্তমানে গণ্ডক নদীর জলস্তর তুলনামূলক কম রয়েছে, যা প্রশাসনের কাছে আপাতত স্বস্তির খবর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দল, নৌকা, ত্রাণসামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নদীর জল কত দ্রুত বাড়ছে, সেই তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিচু এলাকা ও নদীর কাছাকাছি বসবাসকারীদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পাশাপাশি অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নেপালের পরিস্থিতির কারণে সতর্কতা জারি হয়েছে উত্তরপ্রদেশেও। বিশেষ করে মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলায় গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর জলস্তরের দিকে নজর রাখছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে রাজ্যের সেচ দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত গণ্ডকের জল বিপদসীমার নিচেই রয়েছে এবং বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা এখনই নেই।

আরও পড়ুন: AC-র কম্প্রেসার ফেটে পাকিস্তানের হাসপাতালে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড! মৃত অন্তত ১৫ নবজাতক
অন্যদিকে, নেপালে (Nepal Flash Floods) উদ্ধার ও ত্রাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই দেশের প্রশাসনই পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখে সম্ভাব্য নতুন জলোচ্ছ্বাসের মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে।













