বাংলা হান্ট ডেস্ক : বর্ষা এলেই বাড়ে ডেঙ্গির দাপট। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় জল জমার পাশাপাশি স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে। তাই এবার বাড়তি সতর্কতা স্কুলগুলিকে। পড়ুয়াদের মশার কামড় থেকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে স্কুলের পোশাক (School Uniform) পরিবর্তনের পরামর্শ দিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)।
ডেঙ্গি রোধে স্কুলের পোশাক (School Uniform) পরিবর্তনের পথে স্বাস্থ্য দফতর
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বৃহস্পতিবার স্কুলশিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত সচিবকে একটি চিঠি পাঠিয়ে ডেঙ্গুর মরসুমে পড়ুয়াদের পোশাক নিয়ে নির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে সালোয়ার-কামিজ অথবা শাড়ি এবং ছাত্রদের ফুলহাতা জামার সঙ্গে ট্রাউজার পরানোর কথা বলা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য, শরীরের যতটা বেশি অংশ সম্ভব পোশাকে ঢাকা রাখা, যাতে মশার কামড়ের ঝুঁকি কমে।
তবে এই উদ্যোগ একেবারে নতুন নয়। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এর আগে শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। সেই কর্মসূচিতে ডেঙ্গুর সময় স্কুলপড়ুয়াদের পোশাকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক চিঠিকে সেই নির্দেশনারই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসচিবের চিঠিতে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতরকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ডেঙ্গির মরসুম শুরু হয়েছে। তাই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সমস্ত স্কুলে স্বাস্থ্য দফতরের সুপারিশ মেনে পোশাকবিধি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই নির্দেশ আসার আগেই এক স্কুলপড়ুয়ার মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছিল উদ্বেগ। বুধবার দক্ষিণ দমদমের বেদিয়াপাড়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়। ওই পড়ুয়া ডেঙ্গিতে আক্রান্ত ছিল বলে জানা যায়। পরের দিনই নবান্নের তরফে স্বাস্থ্য ভবনের কাছে এই সংক্রান্ত বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়। যদিও স্বাস্থ্য ভবনের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ছাত্রের মৃত্যুর সঙ্গে ডেঙ্গির সরাসরি যোগ নেই।

আরও পড়ুন : রেলযাত্রীদের সুখবর! পুজোর আগেই LHB রেক পাচ্ছে তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস
প্রসঙ্গত, স্কুলগুলিতে পোশাকবিধি বদলের এই পরামর্শ বর্ষাকালে পড়ুয়াদের ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর জন্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনার অংশ। মশাবাহিত এই রোগ নিয়ন্ত্রণে স্কুল, স্বাস্থ্য দফতর এবং পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে।













