বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য পুলিশের নিয়োগ (Police Recruitment) নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal Government)। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশবাহিনীতে বিপুল সংখ্যক পদ ফাঁকা থাকায় আইনশৃঙ্খলা সামলাতে বিভিন্ন থানায় বাড়ছে সিভিক ভলান্টিয়ারদের উপর নির্ভরতা। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার দ্রুত নিয়োগে জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে পুলিশবাহিনীর পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোরও বার্তা দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগের (Police Recruitment) ঘোষণা সরকারের
এদিন এক অনুষ্ঠানে রাজ্য পুলিশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু নতুন কর্মী নিয়োগ নয়, পুলিশকে আরও শক্তিশালী করতে যানবাহন, থানার পরিকাঠামো এবং জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থাতেও বদল আনা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার পুলিশি পদ খালি রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশবাহিনীর সামগ্রিক পরিকাঠামো নিয়ে অসন্তোষের কথা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্য পুলিশে ৪৩ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। বহু থানা সিভিক পুলিশ-নির্ভর। পরিকাঠামো, লজিস্টিক্স এবং গাড়ির এমন খারাপ অবস্থা আর কোথাও নেই।” পুলিশের যানবাহনের সমস্যাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, প্রায় চার হাজার গাড়ি দ্রুত পরিবর্তন করা দরকার। তবে একসঙ্গে এত সংখ্যক গাড়ি কেনার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন।
রাজ্যের অর্থ দফতর একবারে সেই ব্যয়ভার বহন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই ধাপে ধাপে পুরোনো গাড়ি সরিয়ে নতুন গাড়ি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একসঙ্গে চার হাজার গাড়ি দিতে না পারলেও বছরে এক হাজার করে দেব। পুলিশের লজিস্টিক্স এবং পরিকাঠামো বাড়ানো হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব বলছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য বর্তমানে মাত্র ১০৬ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যের তুলনায় এই অনুপাত যথেষ্ট কম বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতির উন্নতিতে আগামী দিনে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য অন্তত ২০০ জন পুলিশকর্মী রাখার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।এই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য প্রথমেই দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ৪৩ হাজার শূন্যপদ পূরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন : এবার একসঙ্গে কাটা যাবে ১ লক্ষ টিকিট! সিস্টেমে আমূল বদল আনছে IRCTC
নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। নারী ও শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও পুলিশের পরিকাঠামো আরও মজবুত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, সাইবার অপরাধের মোকাবিলায় রাজ্য পুলিশের কাজের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সামগ্রিকভাবে পুলিশবাহিনীকে আরও দক্ষ ও দ্রুত কার্যকর করে তুলতে একাধিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন বলেই বার্তা দিয়েছেন তিনি।













