বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি বিশ্বজুড়ে (India GDP Growth) নিজের ছাপ রাখছে। শুধু তাই নয়, গ্লোবাল মার্কেট নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও, ভারত (India) ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। এই আবহেই একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় রেটিং সংস্থা মুডি’স (Moody’s) ভারতীয় অর্থনীতির ওপর একটি অত্যন্ত ইতিবাচক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ওই রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের প্রকৃত GDP বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। মুডি’স স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে যে, বিশ্বের সমস্ত বড় ধরণের ধাক্কা মোকাবিলা করার মতো অসাধারণ শক্তি ভারতের অর্থনীতির রয়েছে। মূলত মুডি’স রেটিংস স্পষ্ট করেছে যে, ভারতের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে বিপর্যস্ত। কিন্তু, ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়নি। রেটিং সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ সরকারি চাহিদা তথা প্রাইভেট কনজাম্পশানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকার পরিকাঠামো খাতে ক্রমাগত প্রচুর পরিমাণে ব্যয় করে চলেছে। এর থেকে দেশের উন্নয়ন সরাসরি সুফল পাচ্ছে।
GDP গ্রোথের (India GDP Growth) অনুমান বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল Moody’s:
এছাড়াও, বেসরকারি সেক্টরের বিনিয়োগও এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। পাশাপাশি, পরিষেবা খাত তার শক্তি বজায় রেখেছে। সম্মিলিতভাবে, এই কারণগুলি মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারণে অন্যান্য অনেক দেশে অনুভূত হওয়া ধাক্কা থেকে ভারতের অর্থনীতিকে রক্ষা করেছে। মুডিসের রুপোর্ট অনুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি ৮.২ শতাংশ রয়েছে। যেখানে ২০২৫ সালের পুরো বছরের জন্য এই পবৃদ্ধি ৭.৩ শতাংশ। এই চমৎকার সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুডি’স তার অনুমান একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। মুডি’স-এর নতুন পূর্বাভাস অন্যান্য বেশ কয়েকটি প্রধান গ্লোবাল প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তথা IMF জুলাই মাসে প্রকাশিত তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক আপডেট’-এ ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৬.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস জুন মাসে ভারতের বৃদ্ধির হার ৬.৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এমনকি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কও জুন মাসে তার বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৬ শতাংশ করেছিল।

যদিও, মুডি’স এই সবকিছু ছাড়িয়ে গিয়ে ভারতের প্রকৃত শক্তির প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে। মুডি’স-এর নতুন ৭ শতাংশের অনুমানটি IMF-এর অনুমানের চেয়ে ০.৬ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, এই হার এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস এবং RBI-এর অনুমানের চেয়ে ০.৪ শতাংশ বেশি। এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, বিশ্ব এখন বিশ্বাস করে ভারত দ্রুততম ক্রমবর্ধমান প্রধান অর্থনীতিগুলির মধ্যে তার শীর্ষস্থান দৃঢ়ভাবে বজায় রাখবে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতেও ভারতের পারফরম্যান্স চমৎকার ছিল। পূর্ববর্তী বছরের ৭.১ শতাংশের তুলনায় ২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি ৭.৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: সিরিজ জিতে মনও জিতলেন শ্রেয়স! টিম ইন্ডিয়ার ট্রফি সেলিব্রেশনে যোগ দিলেন আফগান অধিনায়ক
শক্তিশালী সরকারি নীতি দেশের ঢাল হয়ে উঠেছে: জানিয়ে রাখি যে, এই চিত্তাকর্ষক বৃদ্ধিতে ভারত সরকারের আকর্ষণীয় নীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের মনোযোগ বর্তমানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর। কৃষি থেকে শুরু করে উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি সেক্টরকে সরকার উৎসাহিত করছে। প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ তথা PLI প্রকল্পটি দেশের উৎপাদনকে একটি নতুন গতি দিয়েছে। একইসঙ্গে, পিএম গতি শক্তি যোজনার কারণে লজিস্টিকস ক্ষেত্রে একটি বড় বিপ্লব ঘটেছে। উল্লেখ্য যে, বিদেশি বিনিয়োগ তথা FDI সংক্রান্ত নিয়মকানুনও উল্লেখযোগ্যভাবে সরল করা হয়েছে। যা বিদেশি সংস্থাগুলিকে ভারতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করছে। মুডি’স তার রিপোর্টে এও স্বীকার করেছে যে, ভারতের অর্থনীতি বিশাল। পাশাপাশি ভারতের বৈদেশিক ঋণ ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ ফাইন্যান্সিংয়ের ভিত্তি লক্ষণীয়ভাবে স্থিতিশীল। এই শক্তিগুলির ওপর ভিত্তি করে, সংস্থাটি স্থিতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি সহ ভারতের দীর্ঘমেয়াদী রেটিং Baa3-তে অপরিবর্তিত রেখেছে। সামগ্রিকভাবে সরকারের নীতি প্রমাণ করেছে যে, দেশ যেকোনও বাহ্যিক সঙ্কট মোকালায় সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোনের বাজারে বড় পরিবর্তন! ফিরছে ১০,০০০ টাকার কম দামের 2GB-3GB-র ফোন, জানুন কারণ
মুদ্রাস্ফীতির মোকাবিলার জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত: বর্তমান সময়ে বিশ্ব যখন বর্তমানে জ্বালানি সঙ্কট ও মুদ্রাস্ফীতির হুমকির সম্মুখীন, তখন ভারত এই ঝুঁকিগুলির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ভারতের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রয়েছে। ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য বেশ কিছু নতুন বিকল্পও তৈরি হয়েছে। যার ফলে কোনও একক দেশের ওপর নির্ভরতা কমেছে। দেশের অভ্যন্তরে জনগণের জোরালো চাহিদা এই বাহ্যিক হুমকিগুলি মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী ঢাল হিসাবে কাজ করছে। মুডি’স জানিয়েছে, সরকার ক্রমান্বয়ে তার ঋণ কমাতেও ভালো অগ্রগতি করছে। কর আদায়েও উল্লেখযোগ্য উন্নতির ফলে সরকারের আর্থিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। এর ফলে, ভবিষ্যতে ভারতের ঋণের বোঝা আরও কমলে দেশের রেটিং উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।













