বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের (Smartphones) দাম (Price) ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেই মূল্যবৃদ্ধি থামার কোনও লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। শুধু পুরনো ফোনই নয়, নতুন ফোনও চড়া দামে বাজারে (Market আসছে। এমনকি মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোনগুলির দামও প্রিমিয়াম ফোনের সমান হয়ে গেছে। এই আবহে 4G সাপোর্ট করা এবং ২ জিবি বা ৩ জিবি র্যামের স্মার্টফোনগুলি আবারও ফিরে এসেছে। আইটেল এবং লাভার মতো ব্র্যান্ডগুলি এই ফোনগুলি নিয়েই পুনরায় বাজারে ফেরার জন্য প্রস্তুত। এদিকে, বড় সংস্থাগুলি বেসিক ফিচার্সের ফোন তৈরি করা বন্ধ করে দিয়েছিল। কারণ, সাধারণ মানুষ সেগুলি ব্যবহার করে আর সন্তুষ্ট ছিলেন না। যদিও, এবার অন্য চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ফিরছে ১০,০০০ টাকার কম দামের 2GB-3GB-র ফোন (Smartphones):
বড় বড় কোম্পানিগুলি কমদামি ফোন তৈরি করা বন্ধ করেছে: ইটি টেলিকমের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুসারে, শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে বর্তমানে কিছু কোম্পানি সাশ্রয়ী মূল্যের এন্ট্রি-লেভেল ফোনের বাজার দখল করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে। মূলত, বড় ব্র্যান্ডগুলি অধিক মুনাফার লক্ষ্যে হাই-এন্ড ফোন বিক্রির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে এবং ক্রমশ সাশ্রয়ী মূল্যের ফোন তৈরি করা ছেড়ে দিচ্ছে। এই ফোনগুলির বেশিরভাগেরই দাম ১০,০০০ টাকার নিচে। এখন কোম্পানিগুলির পক্ষে এই বাজেটের মধ্যে ফোন তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ প্রসেসর ও মেমোরির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

জানিয়ে রাখি যে, রিসার্চ ফার্ম IDC-র মতে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে এই সেগমেন্টে শিপমেণ্ট ৭৪.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যার ফলে এর বাজার অংশ ১৫.৬ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৪.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এতে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে, সস্তা ফোন বিক্রি করা কোম্পানিগুলির জন্য আর লাভজনক নয়।
আরও পড়ুন: আর নয় ‘অ্যাডভান্স টিপ’, যাত্রীদের স্বস্তি দিয়ে কড়া অ্যাকশন সরকারের, বড় ঝটকা পেল Ola-Uber
ছোট ব্র্যান্ডগুলি সাশ্রয়ী মূল্যের ফোন বিক্রি করছে: তবে, জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট ফ্লিপকার্ট এবং অ্যামাজনও সিয়াভ্যান্টেজ, ওনেমি এবং জেনোর মতো ছোট ও নতুন ব্র্যান্ডের এন্ট্রি-লেভেল ফোন বিক্রি করছে। যেগুলির ডিজাইন আইফোনের মতো হলেও হার্ডওয়্যারগুলি এন্ট্রি-লেভেলের। উল্লেখ্য যে, সর্বশেষ ২ জিবি র্যামের ফোন ২০২৩ সালে লঞ্চ হয়েছিল। যেটির দাম ৬,০০০ টাকার নিচে ছিল। তবে এখন, ২ জিবি র্যামের ফোন কিনুন বা ৩ জিবি র্যামের, সেগুলির দাম ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। এই ফোনগুলি বাজারে আবার ফিরে আসছে। একটি স্মার্টফোন কোম্পানির একজন উচ্চ অধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, অনেক কোম্পানি পর্যাপ্ত ফোনের যন্ত্রাংশ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। তাই, কাজ চালানোর জন্য তারা কম র্যামের চিপ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
আরও পড়ুন: উৎসবের মরসুমে মিলবে স্বস্তি! দাম কমতে পারে ভোজ্য তেলের, প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার
উৎসবের মরসুমে ২ জিবি এবং ৩ জিবি র্যামের ফোন ফিরে আসবে: ওই আধিকারিক আরও জানান বাজেট ফোনের বর্তমান চাহিদা মেটাতে উৎসবের মরসুমের আগেই এই ধরণের এন্ট্রি-লেভেল হার্ডওয়্যারসহ আরও মডেল বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রির আরেক অভিজ্ঞ ব্যক্তি বলেন, গত বছর অনেক কম দামে হার্ডওয়্যার বিক্রি করলেও এবছর বেশিরভাগ ব্র্যান্ডই ৩০,০০০ টাকার সেগেমন্ট অতিক্রম করেছে। কিন্তু এই ধরণের উচ্চমূল্যের মডেলের বাজার মাত্র ৩ কোটির কাছাকাছি। অন্যদিকে, ১০,০০০ টাকার কম দামের ফোনের চাহিদা এখনও বেশ ভালো। বিশেষ করে ছোট শহরগুলিতে এই চাহিদা পরিলক্ষিত হয়।













