বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু। সেই কারণে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল পরিবার। তবে বেশ কিছু কারণ দেখিয়ে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় রেল (Indian Railways)। পরবর্তীতে সেই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি। এবার সেই মামলাতেই অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। রেলের যাবতীয় যুক্তি খারিজ করে এই নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর বেঞ্চ।
৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের | (Calcutta High Court)
জানা গিয়েছে, সুকুমার মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মণ্ডল পরিবার ঝাড়গ্রাম থেকে হাওড়ার দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় উলুবেড়িয়া ও ফুলেশ্বরের মাঝে সিগন্যাল লাল থাকায় ট্রেনটি থেমে যায়। তখন সুকুমার ও তাঁদের দুই সন্তান নেমে গেলেও তাঁর স্ত্রী নামার সময় ট্রেনটি ফের চলতে শুরু করে। ফলে ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
আরও পড়ুনঃ মমতাদের ‘ফুটবল খেলোয়াড়’, ঋতব্রতদের ‘খাম’! দুই তৃণমূলের বিকল্প নামও জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন
সেই অবস্থায় সুকুমারের স্ত্রীকে প্রথমে উলুবেড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। ২০১২ সালের ৫ মার্চ হাওড়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন ওই মহিলার মৃত্যু হয়।
এরপর ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে রেলের দ্বারস্থ হন সুকুমার। তবে রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনালের তরফ থেকে সেই আবেদন খারিজ করে জানানো হয়, মৃত মহিলার ভুলে ওই ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনাটি কোনও দুর্ঘটনা ছিল না। পাশাপাশি আবেদনকারী প্রমাণ করতে পারেননি মৃত মহিলা একজন বৈধ যাত্রী ছিলেন।
এছাড়া পুলিশ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে রেল জানায়, ট্রেন চলতে শুরু করার পর ওই যাত্রী ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি দাবি করা হয়, আবেদনকারী তথ্য গোপন করেছেন ও ট্রেনের টিকিটও দেখাতে পারেননি।

যদিও রেলের কোনও যুক্তিই হাইকোর্টে টেকেনি। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় উল্লেখ করে আদালত জানায়, ট্রেনে ওঠানামার সময় কোনও যাত্রীর অসাবধানতাকে ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার কারণ হিসেবে দেখাতে পারে না রেল কর্তৃপক্ষ। বিচারপতি চৌধুরীর নির্দেশ, রেলওয়ে আইনের (১৯৮৯) ১২৪এ ধারা অনুসারে মৃত যাত্রীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ট্রেনের টিকিট উদ্ধার না হওয়া সংক্রান্ত রেল কর্তৃপক্ষের যুক্তি খারিজ করে হাইকোর্টের নির্দেশ, যেদিন আবেদন জানানো হয়েছে, সেদিন থেকে ৯ শতাংশ হারে সুদ সহ ৪ লক্ষ টাকা বা ৮ লক্ষ টাকা (যেটা বেশি হবে), সেটা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোনও রকম অজুহাত না দেখিয়ে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।













