বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের স্কুলে(Schools) এবার শুধু পড়াশোনা নয়, ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও পড়ুয়াদের সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জীবনবিমা সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক ধারণা তৈরি করতে কলকাতার সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা করেছে ভারতীয় জীবনবীমা নিগম (LIC)।
স্কুল(Schools) পড়ুয়াদের জন্য জীবনবীমা নিগমের কর্মসূচি
‘হর ঘর বিমা’ প্রচারের অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্কুল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়ে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতর নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। কর্মসূচিটি মূলত কলকাতার মাধ্যমিক স্তরের সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিকে কেন্দ্র করে হবে। কলকাতার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে পাঠানো নির্দেশে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির প্রধানশিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করার কথা বলা হয়েছে।
স্কুলগুলিতে শিবির আয়োজনের আগে স্কুলশিক্ষা ডিরেক্টরেটের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। যে স্কুলে অনুষ্ঠান হবে, সেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই পুরো আয়োজন করতে হবে। স্কুলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সচেতনতা কর্মসূচির আবেদন জানিয়েছিল এলআইসির জওহরলাল নেহরু রোড শাখা। ওই শাখার ম্যানেজার-ইন-চার্জের আবেদনের ভিত্তিতেই স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।
এলআইসির উদ্যোগ হলেও সরকারি স্কুলগুলিতে কর্মসূচি চালানোর ক্ষেত্রে শিক্ষা দফতরের অনুমোদন ও স্থানীয় স্কুল প্রশাসনের সম্মতিই গুরুত্বপূর্ণ। এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক। তিনি বলেন, “খুবই ভাল উদ্যোগ। এর ফলে সকলেই উপকৃত হবে। বিমার মতো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সম্পর্কে তথ্য সকলেরই জানা প্রয়োজন।”
তবে একই বিষয়ে আপত্তি রয়েছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের। তাঁর মতে,”এই উদ্যোগের সারবত্তা দেখছি না। বিমা সম্পর্কে বর্তমানে সকলেই ওয়াকিবহাল। এ জন্য পৃথক উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছি না।”

আরও পড়ুন : ২৪ ঘণ্টা চালু টিকিট কাউন্টার! পুজোয় ভিড় সামাল দিতে শিয়ালদহে মাস্টারপ্ল্যান
একই উদ্যোগকে ঘিরে তাই তৈরি হয়েছে দুই ধরনের মত। এক পক্ষের মতে, অল্প বয়স থেকেই বিমা ও আর্থিক সুরক্ষা সম্পর্কে ধারণা তৈরি হলে ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। অন্য পক্ষ মনে করছে, স্কুলের পরিসরে এই কর্মসূচি কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে। এখন দেখার, শিক্ষা দফতরের অনুমোদনের পর কলকাতার স্কুলগুলিতে এলআইসির এই সচেতনতা শিবির কীভাবে বাস্তবায়িত হয়।













