দুর্গাপুজোয় ‘নিদান’ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের! থিম নয়, মণ্ডপে আমিষও নয়, বিতর্ক তুঙ্গে

Published on:

Published on:

VHP’s Durga Puja Guidelines Spark Controversy in Bengal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দুর্গাপুজো ঘিরে বাংলায় নতুন করে বিতর্ক। পুজোর মণ্ডপে কী করা যাবে, কী করা যাবে না, তা নিয়ে একাধিক ‘নিদান’ (Durga Puja Guidelines) দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। সম্প্রতি সল্টলেকে কয়েকটি পুজো কমিটিকে নিয়ে বৈঠকে থিমের বদলে সাবেকি পুজো, মণ্ডপে আমিষ না ঢোকানো এবং মণ্ডপের আশপাশে আমিষ বিক্রি না করার মতো একাধিক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বক্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও VHP-র দাবি, আমিষ খাওয়া বন্ধ করার কথা তারা বলেনি। তাদের বক্তব্য, মণ্ডপের ‘শুচিতা’ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

দুর্গাপূজো নিয়ে (Durga Puja Guidelines) কী বলেছে VHP?

সম্প্রতি সল্টলেকে কয়েকটি পুজো কমিটিকে নিয়ে বৈঠক করে VHP। পুজো কমিটিগুলির দাবি, বৈঠকে থিমের পুজো না করে সাবেকি প্রতিমা করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিমা তৈরির সময় ফটোশ্যুট না করা, এমনকি কুমোরটুলিতেও মায়ের ছবি না তোলার কথা বলা হয়। মণ্ডপের ভিতরে আমিষ না আনা এবং বাইরে আমিষের দোকান না রাখার ‘আবেদন’ও করা হয় (Durga Puja Guidelines)। কোনও ‘বিকৃত’ কিছু দেখা গেলে পুজো বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।

এই বিষয়গুলি ‘পুজো পরিবার’ নামে একটি সংগঠন ফেসবুকে পোস্ট করার পরেই সমাজমাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ না বলে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব তার তার’ বলার কথাও VHP জানিয়েছে বলে দাবি। বৈঠকে এক পুজোকর্তা প্রশ্ন করেন, খিদিরপুরে বহু বছর ধরে সংখ্যালঘু মানুষ দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত। তাহলে সেখানে কী হবে?

দক্ষিণ কলকাতার শিবমন্দির পুজোর উদ্যোক্তা পার্থ ঘোষ বলেন, মণ্ডপের ভিতরে কেউ আমিষ খেতে খেতে ঢোকে না। বাইরে আমিষ বা নিরামিষের স্টলও অগ্নি সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মণ্ডপ থেকে দূরে রাখা হয়। তাঁর কথায়, পুজোর প্রস্তুতি অনেক আগে শুরু হয়। তাই এখন থিম বন্ধ করতে বললে তা বদলানো সম্ভব নয়। থিমের সঙ্গে শিল্প জড়িয়ে রয়েছে এবং সেই শিল্প দেখতেই মানুষ মণ্ডপে যান।

ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন উকিল জানান, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পুজো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, তাঁরা তা দেখবেন। VHP-র বিষয়গুলি নিয়েও পুজো কমিটিগুলি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। প্রশাসন কী চাইছে, সেটাও জানা দরকার বলে জানান তিনি।

আমিষ বন্ধের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলার বহু জায়গায় শাক্ত মতে পুজো হয়। অষ্টমীতে অনেকে নিরামিষ খেলেও নবমীতে পাঁঠার ঝোল খাওয়ার রীতি বহু পুরনো। প্রাচ্য বিদ্যা আকাদেমির জয়ন্ত কুশারি বলেন, কিছু বৈষ্ণব পরিবারে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হলেও তন্ত্রের নিয়মে দেবীপুজোয় বলিদান ও আমিষ ভোগের রীতি রয়েছে। বহুদিন ধরে এই রীতি চলে আসছে। তাই আমিষ ভোগ বন্ধের কথা বাংলার দুর্গাপুজোর পরম্পরার সঙ্গে মেলে না বলে তাঁর মত (Durga Puja Guidelines)।

Durga Puja 2026 Khuti Puja

আরও পড়ুনঃ নেপালে এখনও নিখোঁজ ৩৭ বাঙালি, পরিবারকে বড় আশ্বাস শুভেন্দুর, খুলছে বিশেষ WhatsApp গ্রুপ

তবে VHP-র অমিয় সরকার বলেন, সভায় আমিষ নিয়ে কথা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমিষ খাওয়া যাবে না এমন কোনও কথা বলা হয়নি। তাঁর দাবি, ভুল প্রচার হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য শুধু মণ্ডপের শুচিতা ও পবিত্রতা বজায় রাখা নিয়ে। মণ্ডপের ভিতর বা আশপাশে খাওয়াদাওয়া করে নোংরা না করার কথাই বলা হয়েছে বলে জানান তিনি (Durga Puja Guidelines)।