বাংলাহান্ট ডেস্ক: নেপালে (Nepal) ভয়াবহ হড়পা বানের পর উদ্ধারকাজ ঘিরে বড় সিদ্ধান্ত বদল করল কাঠমান্ডু (Kathmandu)। প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে দেশের ভিতরে কাজ করার অনুমতি না দেওয়ার কথা জানিয়েছিল নেপাল সরকার (Government of Nepal)। তাদের বক্তব্য ছিল, নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলিই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম। তবে বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এবং একাধিক বিদেশি নাগরিকের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসার পর মাত্র এক দিনের মধ্যেই সেই অবস্থান বদলেছে বলে নেপালের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। ফলে এখন ভারত-সহ একাধিক দেশের বিশেষজ্ঞ দলকে উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযানে যুক্ত করার পথ খুলে গিয়েছে।
নেপালে (Nepal) উদ্ধার কাজে সাহায্য নেওয়া হবে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের:
নেপালের (Nepal) রসুয়া এবং নুওয়াকোট জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ভয়াবহ বন্যা ও ধসের জেরে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে শ্রমিক ও ইঞ্জিনিয়াররা আটকে পড়েছেন অথবা তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের কাছে পৌঁছনো স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের পক্ষেও অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গের ভিতর আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং মৃতদেহ উদ্ধার করতে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জানা গিয়েছে, আপাতত ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের নেপালে উদ্ধারকাজে যুক্ত হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানের পাশাপাশি মৃতদেহ শনাক্তকরণ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার মতো কাজেও তাঁদের দক্ষতা কাজে লাগানো হতে পারে। বিভিন্ন দেশের তরফে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছিল। সেই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই কাঠমান্ডুর সিদ্ধান্ত বদল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতও শুরু থেকেই নেপালের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। নয়াদিল্লির তরফে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা NDRF-এর সদস্য, চিকিৎসক এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুড়ঙ্গ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান চালানোর পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকা মানুষদের নিরাপদে বের করে আনার ক্ষেত্রে এই দলগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের উদ্ধারকারী দল পাঠানোর বিষয়ে তৎপরতা শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: আগস্টের শেষে কমল সোনার দাম, জানুন আজকের ২২ ও ২৪ ক্যারেটের লেটেস্ট রেট কত?
বিপর্যয়ের প্রথম দিকে নেপাল আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র সামনে আসার পর সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা বহু শ্রমিক ও ইঞ্জিনিয়ারের জীবন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। তাই এখন মূল লক্ষ্য দ্রুত সমন্বিত উদ্ধার অভিযান চালানো। কোন দেশের দল কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবে, তা নেপালের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই ঠিক করা হবে। একইসঙ্গে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াও অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সময়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা শেষ পর্যন্ত কতটা প্রাণ বাঁচাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে (Nepal)।













