বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এবার ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। পরিষদীয় দলের বৈঠক নিয়ে ফিরহাদের করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ফিরহাদের দাবি, বৈঠকে বিধায়কেরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। সেই দাবিকেই প্রকাশ্যে খারিজ করে দিয়েছেন কুণাল।
ফিরহাদ প্রসঙ্গে বেফাঁস কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)
শনিবার এ নিয়ে মুখ খোলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, পরিষদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কেরা দাঁড়িয়ে ঋতব্রতর নাম বলেছিলেন—ফিরহাদের এই দাবি আদৌ সত্য নয়। কুণালের কথায়, “উনি বলেছেন পরিষদীয় দলের বৈঠকে নাকি সবাই দাঁড়িয়ে উঠে ঋতব্রতর নাম বলেছিল। বিধায়করা দাঁড়িয়ে উঠে নাকি ঋতব্রতর নাম বলেছিল, সেটা নাকি শোনা হয়নি।” এর পরেই ফিরহাদের বক্তব্যকে সরাসরি মিথ্যা বলে আক্রমণ করেন কুণাল। তিনি বলেন, “ডাহা মিথ্যে কথা। কারণ সেইদিন কেউ একজনও ঋতব্রতর নাম বলেননি।”
ফিরহাদ হাকিমের মতো প্রবীণ নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য কেন আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল। তিনি বলেন, “আগাগোড়া মিথ্যে কথা বলেছেন ফিরহাদ হাকিম। কেন করছেন এসব? সিনিয়র নেতা আপনি! আপনাকে যেতে হয়েছে নানা কারণে। আপনার চাপ আছে জানি। কিন্তু তা বলে আপনি মিথ্যে কথা বলবেন?”
এখানেই থামেননি কুণাল। ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা দেওয়ার পুরনো প্রসঙ্গ তুলে এনে তিনি দাবি করেন, অতীতে কলকাতা পুরসভার দায়িত্ব ছাড়তে চেয়েছিলেন ফিরহাদ। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ইস্তফা দিতে নিষেধ করেছিলেন। কুণাল ঘোষ বলেন, “আপনার ইস্তফাটাও তো আমার মনে আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাকে ইস্তফা দিতে দেননি। বলেছিলেন, আর কটা মাস বাকি। কলকাতার নাগরিকরা যাতে ঠিকঠাক পরিষেবা পায় তার জন্য ববি তুই চালিয়ে দে।”
কুণালের দাবি, সেই সময়ে ফিরহাদ নিজেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেছিলেন। কুণালের বক্তব্য, “আপনি আমাকে এসে বলেছেন, দিদিকে বোঝাও। আমি ইস্তফা দেবই। আমি আপনাকে নিয়ে যাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। দিদি বলেছিলেন, ববি ইস্তফা দিস না। ভোট অবধি মানুষকে পরিষেবাটা দে। আপনি এই শব্দটা বলেছিলেন, আমাকে ইস্তফাটা দিতে দাও দিদি, নইলে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে। তার পরে দিদি বলেন, তাহলে তুই যা ভালো বুঝি কর।”
এই মন্তব্যের সূত্র ধরেই ফিরহাদের কাছে পাল্টা ব্যাখ্যা চেয়েছেন কুণাল। তাঁর প্রশ্ন, ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতির কারণে সেই সময় আত্মহত্যার কথা বলতে হয়েছিল? কুণালের কথায়, “কী চাপ ছিল যে আপনাকে আত্মহত্যা করতে হত? সেগুলো বলুন! সেগুলো কাল মাইকে বললেন না কেন? কাজ করতে পারছি না বলে কেউ আত্মহত্যা করে না! আত্মহত্যা হয় যখন কোনও না কোনও কারণে প্রবল চাপ আপনার উপরে আসে। নইলে আত্মহত্যা শব্দ ব্যবহার হয় না। আমার এরকম এক্সপেরিয়েন্স আছে। অ্যাটেম্পট টু সুইসাইডের।”

আরও পড়ুন : কমবে অপেক্ষা! এবার তিন মাস অন্তর বাড়বে DA? সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বড় খবর
পরিষদীয় দলের বৈঠক থেকে শুরু করে ফিরহাদের পুরনো ইস্তফার প্রসঙ্গ—একাধিক বিষয় সামনে এনে এ দিন সরব হয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর মন্তব্যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে ফের জোর চর্চা শুরু হয়েছে।













