বাংলাহান্ট ডেস্ক: নেপালের (Nepal) ভয়াবহ বন্যা ও কাদাস্রোতের (Nepal Flash Floods) মধ্যে যখন চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ, কাদা আর নিখোঁজ মানুষদের খোঁজে হাহাকার, তখনই সামনে এল এক টুকরো আশার খবর। বিপর্যয়ের প্রায় তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ক্ষীণ কান্নার আওয়াজ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা। সেই শব্দের সূত্র ধরেই শুরু হয় তল্লাশি। দীর্ঘক্ষণ ধরে মাটি ও কাদার স্তর সরানোর পর অবশেষে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছয় বছরের এক শিশুকে। রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামের এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্ধারকারী দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি এনে দিয়েছে। উদ্ধারের মুহূর্তের ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন উদ্ধারকারীরা।
নেপালে (Nepal) হড়পা বানের ৩ দিন পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার ৬ বছরের শিশু
জানা গিয়েছে, ভোটেকোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার জেরে রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রাম ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে। জল আর কাদার স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত লন্ডভন্ড হয়ে যায়। বহু বাড়িঘর ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক মানুষ নিখোঁজ হয়ে যান। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছিল নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বা এপিএফ-এর একটি দল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কোথাও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজতে একের পর এক জায়গা পরীক্ষা করছিলেন তাঁরা। সেই সময়ই আচমকা মাটির নীচ থেকে কান্নার শব্দ তাঁদের কানে আসে (Nepal)।
আরও পড়ুন: ‘প্রকৃত শত্রুকে চিহ্নিত করুন’, আমেরিকার বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা খামেনেইয়ের
কোনও সময় নষ্ট না করে শব্দের উৎস চিহ্নিত করে খনন শুরু করেন এপিএফ সদস্যরা। পুরু কাদা এবং ধ্বংসাবশেষের স্তর একের পর এক সরানোর পরে দেখা যায়, তার নীচে আটকে রয়েছে শিশুটি। বেশ কিছুটা সময় ধরে সাবধানে কাজ করার পর তাকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধার হওয়ার পর শিশুটিকে প্রথমে তিমুরের এপিএফ বর্ডার আউটপোস্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কম দৃশ্যমানতার কারণে শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলিকপ্টার ওড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে রাতভর তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চালান উদ্ধারকারীরা।
শনিবার দুপুরের দিকে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলে শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। জানা গিয়েছে, শিশুটির নাম মনীষা মাগর। তবে এত বড় বিপর্যয়ের মধ্যেও এখনও তার পরিবারের সদস্যদের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। প্রশাসন তার বাবা-মা বা আত্মীয়দের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শিশুটিকে কেউ চিনতে পারলে অথবা তার পরিবারের বিষয়ে কোনও তথ্য জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আবেদন করা হয়েছে। এদিকে উদ্ধারের ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর বহু মানুষ এপিএফ-এর প্রশংসা করেছেন। অনেকের বক্তব্য, উদ্ধারকারীরা হাল ছেড়ে না দেওয়াতেই ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: মর্গে নেই জায়গা, নেপালে গণসৎকারের প্রস্তুতি! জিয়োট্যাগিংয়ে থাকবে মৃতদেহের ঠিকানা
তবে একটি শিশুর এই অলৌকিক উদ্ধারের খবরের পাশাপাশি নেপালের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বন্যা ও কাদাস্রোতের ভয়াবহ ধাক্কায় দেশজুড়ে উদ্ধারকাজ জোরকদমে চলছে। শনিবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পরই পুনর্গঠনের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৬৭৫টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ২,৪০০-রও বেশি মানুষ নিখোঁজ। ফলে তল্লাশি অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিপর্যয়ের ভয়াবহ ছবি। সেই পরিস্থিতিতে তিমুরে গ্রামের ছয় বছরের শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে—ধ্বংসস্তূপের নীচেও কখনও কখনও আশার আলো বেঁচে থাকে (Nepal)।













