বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei) ফের এক বার্তা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ালেন। প্রকাশ্যে না এসে গোপন অবস্থান থেকেই দেওয়া তাঁর এই বার্তায় মূলত উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে। আমেরিকার (America) বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়ে তিনি মুসলিম দেশগুলিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিভাজনের বদলে নিজেদের প্রকৃত প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করে সম্মিলিত ভাবে তার মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এই বার্তা এমন সময়ে সামনে এল, যখন ইরান ও আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে চাপানউতোর চলছে এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিও অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
আমেরিকার বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা খামেনেইয়ের (Mojtaba Khamenei)
কয়েক দিন আগে হজরত মহম্মদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে টেলিগ্রামে একটি বার্তা প্রকাশ করেন মোজতবা (Mojtaba Khamenei)। সেখানেই মুসলিম দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য এবং যৌথ প্রতিরক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, মুসলিম সমাজের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে তার সুবিধা পায় ইসলামের বিরোধী শক্তিগুলিই। প্যালেস্টাইনের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলিম দেশগুলি যদি আরও ঐক্যবদ্ধ থাকত, তা হলে কি প্যালেস্টাইনকে এতটা অসহায় পরিস্থিতির মুখে পড়তে হত? তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মুসলিম দেশগুলির পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টিও স্পষ্ট ভাবে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: মর্গে নেই জায়গা, নেপালে গণসৎকারের প্রস্তুতি! জিয়োট্যাগিংয়ে থাকবে মৃতদেহের ঠিকানা
এর পরেই উপসাগরীয় দেশগুলির সরকার ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আরও সরাসরি বার্তা দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন, ইসলামের পতাকার নীচে যদি ওই অঞ্চলের দেশগুলি ঐক্যবদ্ধ থাকত, তা হলে অন্য কোনও শক্তির পক্ষে তাদের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের দিকে নজর দেওয়ার সাহস করা কঠিন হত। একই সঙ্গে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও সমন্বিত ভাবে ভাবার আহ্বান জানান। তাঁর বার্তার মূল সুর ছিল— নিজেদের মধ্যে বিভাজন না বাড়িয়ে প্রকৃত প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করতে হবে, তার কৌশল বুঝতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সম্মিলিত ভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে। ফলে তাঁর এই বক্তব্যকে আমেরিকার বিরুদ্ধে ইরানের কড়া রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মোজতবার এমন বার্তার নেপথ্যে রয়েছে ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন বলে জানানো হয়েছিল। হামলায় তাঁর পরিবারের আরও কয়েক জন সদস্যের মৃত্যুর খবরও সামনে আসে। সেই অভিযানে মোজতবা গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছিল। পরে প্রকাশ্যে না এসেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল বলে খবর ছড়ায়। সেই সময়ের মধ্যেই তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা না গেলেও ইরানের তরফে তাঁর নামে একাধিক লিখিত বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোদী পেলেন উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান! ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি
মোজতবা খামেনেইয়ের (Mojtaba Khamenei) নতুন বার্তাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। প্রকাশ্যে অনুপস্থিত থেকেও তাঁর বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং বিদেশনীতি—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে আমেরিকার প্রভাব এবং পশ্চিম এশিয়ায় তার ভূমিকা নিয়ে ইরানের অবস্থান আরও এক বার স্পষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গ তুলে মুসলিম দেশগুলির মধ্যে ঐক্যের ডাক দেওয়ায় বিষয়টি শুধু ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার সমীকরণ, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনীতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।













