বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার বদলের পর শিক্ষা স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে যে স্বাস্থ্য পরিষেবা রাজ্যে পাওয়া যায় তা আরও উন্নতমানের করার জন্য নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal) বিপিএইচসি (Block Primary Health Centre) ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে যৌথ অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা করছে।
সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকেই মিলবে প্রাইভেট হাসপাতালের মত পরিষেবা
BHPC ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একসাথে কাজের লক্ষ কি? এর উত্তর হল দুটি। একদিকে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত ও শক্তিশালী করে তোলা। অন্যদিকে মেডিকেল ছাত্রদের প্রাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাড়ানো। যাতে তাঁরা সঠিক ট্রেনিং পেতে পারে।
এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শরদ্বৎ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই ধারণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে ১৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ চালু আছে। প্রতিটি কলেজ প্রায় ১০টি ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টার বা BPHC দেখাশোনা করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘ভারত বিরোধী মানসিকতা মন থেকে মুছে দেব’, যাদবপুর ইস্যুতে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
কিভাবে BHPC ও প্রাইভেট হাসপাতাল কাজ করবে?
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, সরকার রোগী সরবরাহ করবে। বেসরকারি কলেজগুলো অবকাঠামো দেবে। যেমন আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, সেমি-অটো অ্যানালাইজার থেকে শুরু করে প্রশিক্ষিত নার্সিং কর্মী। সরকার ডাক্তার ও অন্যান্য স্টাফ দেবে, এভাবে দুই পক্ষ মিলে গ্রামীণ স্বাস্থ্য নেটওয়ার্ক মজবুত হবে। ফলে উক্ত এলাকার মানুষেরা আরও উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
বতর্মানে, ব্লক প্রাইমারি হেলথ সেন্টার গুলিতে সাধারণত ২০টি বেড থাকে। প্রতিদিন ৩০ বা তার বেশি রোগী আসে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, “ডাক্তার বানাতে রোগী লাগে। রোগী ছাড়া ডাক্তার তৈরি হয় না।” ফলে এই কেন্দ্রগুলো ছাত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
প্রসঙ্গত, নতুন এই যৌথ কর্মসূচি চালু হলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা এখন শুধু কলেজ হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। গ্রামের বাস্তব পরিস্থিতিতে রোগী দেখার সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন ব্যবহারিক জ্ঞান বাড়বে তেমনি গ্রামের মানুষও উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। এই প্রসঙ্গে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি রাজ্যে আরও ৬টি নতুন মেডিকেল কলেজ ও উত্তরবঙ্গে AIMS-এর মতো প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনাও আছে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গে ট্রমা সেন্টার তৈরির কাজও চলছে।













