কমিশনের ‘ফ্রিজ’ সিদ্ধান্তে আদালতে মমতা, দ্রুত শোনার চেষ্টা করা হবে বলল সুপ্রিম কোর্ট

Published on:

Published on:

Supreme Court assured Mamata Banerjee of an early hearing in the Jora Phul case
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘাত এবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। উপনির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছে তাঁর তরফে।

সুপ্রিম কোর্টে কী আবেদন মমতার (Mamata Banerjee) ?

মামলাটি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মমতার পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান তিনি। আদালত জানায়, মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পক্ষকে আগে বিষয়টি জানাতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব শুনানির চেষ্টা করা হবে বলেও বেঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। তার আগে দুই শিবিরের জন্য পৃথক পরিচয় নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে নির্বাচনে লড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ফুটবল পায়ে ফুটবলার প্রতীক। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির ভোটে নামছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে। তাদের প্রতীক খাম।

প্রসঙ্গত, এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের দলীয় কর্তৃত্ব নিয়ে চলা দ্বন্দ্ব। বৃহস্পতিবার রাতে কমিশনের দেওয়া অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানানো হয়, আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ থাকবে। অর্থাৎ, কোনও পক্ষকেই এই নাম বা প্রতীক ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়নি। দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে, দলীয় তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর এবং তৃণমূলের বৈধ দাবিদার কে— এই বিষয়গুলির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পরেই নাম ও প্রতীক নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

কমিশনের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস। রাজ্য রাজনীতিতে যা ঘটছে, তা দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, গণতন্ত্র-বিরোধী এবং রাজনৈতিক ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট।” নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি। দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত বিতর্কে শিবসেনা এবং এনসিপির প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “আমাদের আগে উদ্ধব ঠাকরের দলের প্রতীক কেড়েছে। এনসিপি-কে ভেঙেছে। এ বার আমাদের!” মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নাম সরাসরি না করেও তাঁকে নিশানা করেন তৃণমূলনেত্রী।

Supreme Court assured Mamata Banerjee of an early hearing in the Jora Phul case

আরও পড়ুন : রেশন কার্ডের এই দুই ধরন নিয়ে ধন্দ? RKSKY-1 না RKSKY-2, সুবিধার পার্থক্য জানুন

কমিশনের সিদ্ধান্তের পরই আইনি চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নেয় মমতা শিবির। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পক্ষ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে মমতার আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।