৮ বছর বয়সে হারান দৃষ্টিশক্তি! প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে ছিলেন মা, আজ IAS হয়ে নজির গড়লেন মনু

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র ৮ বছর বয়সে বিরল জিনগত রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন মনু গার্গ (Manu Garg)। চোখের সামনে ধীরে ধীরে অন্ধকার নেমে এলেও সফলতার (Success Story) স্বপ্ন দেখা থামেনি তাঁর। বরং কঠিন পরিস্থিতিকে সঙ্গী করেই নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন মনু। রাজস্থানের (Rajasthan) জয়পুরে তাঁর বেড়ে ওঠা। কিন্তু অষ্টম শ্রেণিতে ধরা পড়ে ‘রেটিনাল পিগমেন্টোসা ম্যাকুলার ডিজেনারেশন’ নামের একটি বিরল জেনেটিক রোগ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকে। স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় গোটা পরিবার।

মনু গর্গের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

এই কঠিন সময়ে মনুর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ান তাঁর মা। ছেলের পড়াশোনা যাতে কোনওভাবেই থেমে না যায়, সেজন্য তিনি কার্যত নিজের জীবনকেই নতুন করে সাজিয়ে নেন। স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে নোট সংগ্রহ করতেন, বাড়িতে ফিরে সেগুলি পড়ে শোনাতেন ছেলেকে। মনু যা বলতেন, তাঁর মা নিজের হাতে তা লিখেও দিতেন। এভাবেই ছেলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁর পড়াশোনার পুরো প্রক্রিয়ায় পাশে থেকেছেন তিনি। মায়ের এই নিরন্তর সহযোগিতা মনুকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, চেষ্টা চালিয়ে গেলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: গায়ক অঙ্কিত বালিয়ান হত্যাকাণ্ডে বড় অ্যাকশন! পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু সন্দেহভাজন ২ শুটারের

পড়াশোনায়ও নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে থাকেন মনু। কম্পিউটার সায়েন্সে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দ্বাদশ শ্রেণিতে ১০০-তে ১০০ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষায় পৌঁছে প্রযুক্তিকেও নিজের শক্তিতে পরিণত করেন মনু। স্ক্রিন রিডারের মতো সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পড়াশোনা চালিয়ে যান। বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস এবং প্রযুক্তির সাহায্যে বই, নোট ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের পথ সহজ হয়। ফলে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমিয়ে নিজের পড়াশোনা নিজেই এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁকে আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস দেয়।

উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর মনুর লক্ষ্য স্থির হয় দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা UPSC। প্রথমবার পরীক্ষায় সাফল্য না এলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। কোথায় ভুল হয়েছিল, তা খুঁজে বের করে নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করেন। দ্বিতীয়বার আরও বেশি আত্মবিশ্বাস এবং পরিকল্পনা নিয়ে পরীক্ষায় বসেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৯১তম স্থান অর্জন করেন মনু গার্গ। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের লড়াই, অধ্যবসায় এবং নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার এক অসাধারণ উদাহরণ হয়ে ওঠে।

Success Story of Manu Garg will surprise you.

আরও পড়ুন:ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন সমীকরণ? ইরান-রাশিয়ার সঙ্গে মোদির বৈঠকে বাড়ছে ‘তৃতীয় অক্ষের’ জল্পনা

আজ মনু গার্গ রাজস্থান ক্যাডারের একজন IAS অফিসার। যে ছেলেটি একসময় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল, তিনিই শেষ পর্যন্ত দেশের অন্যতম কঠিন প্রশাসনিক পরীক্ষায় সাফল্য (Success Story) অর্জন করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁর এই পথচলায় মায়ের ভূমিকা নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য। তবে মনুর নিজের জেদ, পরিশ্রম এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাও তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর জীবনকাহিনি তাই শুধু অনুপ্রেরণার গল্প নয়; এটি মনে করিয়ে দেয়, জীবনের কোনও একটি বাধা শেষ কথা নয়। লক্ষ্য স্থির রেখে চেষ্টা চালিয়ে গেলে প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের ভবিষ্যৎ নিজের মতো করে গড়ে নেওয়া সম্ভব।