বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে (India) চিপস, বিস্কুট কিংবা ঠান্ডা পানীয়—প্যাকেটজাত (Packaged Food) খাবার কেনার আগে এতদিন পুষ্টিগুণ জানতে প্যাকেটের পিছনের ছোট ছোট অক্ষরের লেবেলই ভরসা ছিল। এবার সেই ছবিটা বদলাতে পারে। খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বি রয়েছে কি না, তা যাতে ক্রেতা প্যাকেট হাতে নিয়েই বুঝতে পারেন, সেই লক্ষ্যে সামনের দিকে লাল সতর্কীকরণ চিহ্ন বসানোর প্রস্তাব করেছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা FSSAI। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সীমার বেশি চিনি, লবণ বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকলে প্যাকেটের সামনে লাল ষড়ভুজের মতো সতর্কবার্তা দেখা যেতে পারে। মূল উদ্দেশ্য, কেনাকাটার সময় ভোক্তাদের দ্রুত এবং সহজে পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্য জানানো।
ভারতে (India) ১০০-রও বেশি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে কেন থাকবে লাল চিহ্ন?
এই উদ্যোগের পিছনে রয়েছে দেশে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য জীবনযাত্রাজনিত রোগের বাড়তে থাকা উদ্বেগ। ভারতীয়দের জন্য ২০২৪ সালের ICMR-NIN-এর খাদ্যতালিকা নির্দেশিকাতেও অতিরিক্ত চিনি, লবণ, চর্বি এবং অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় মোট ১৭টি সুপারিশের মাধ্যমে সুষম এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব খাবারে ক্যালোরি, চিনি, লবণ বা ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, সেগুলি নিয়মিত বেশি পরিমাণে খাওয়া এড়াতে বলা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্যাকেটজাত খাবার মাত্রই অস্বাস্থ্যকর; বরং খাবারের পরিমাণ, গুণমান এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য বজায় রাখাই মূল বিষয়।
আরও পড়ুন:৮ বছর বয়সে হারান দৃষ্টিশক্তি! প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে ছিলেন মা, আজ IAS হয়ে নজির গড়লেন মনু
প্রস্তাবিত নিয়মে কোনও খাবারে নির্দিষ্ট সীমার বেশি পুষ্টি উপাদান থাকলে তা সামনে স্পষ্ট করে জানানোর কথা বলা হয়েছে। দেওয়া মানদণ্ড অনুযায়ী, কঠিন খাবারের ক্ষেত্রে প্রতি ১০০ গ্রামে অতিরিক্ত চিনি ৩ গ্রামের বেশি, অতিরিক্ত ফ্যাট ৪.২ গ্রামের বেশি বা লবণ ০.৬২৫ গ্রামের বেশি হলে সংশ্লিষ্ট সতর্কীকরণ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে তরল খাবারের জন্য একই মাপকাঠি নয়। স্কুলের খাবার সংক্রান্ত ২০২৬ সালের প্রস্তাবে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে অতিরিক্ত চিনি ২ গ্রাম, ফ্যাট ১.৫ গ্রাম এবং লবণ ০.১৭৫ গ্রামের মতো আলাদা সীমার কথা বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এগুলি সবই প্রস্তাবিত মান; প্যাকেটের সামনের লেবেলের চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে এগুলিকে এখনও ধরে নেওয়া যাবে না।
এদিকে এই সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একাংশের আপত্তিও রয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলির বক্তব্য, শুধু প্যাকেটের সামনে একটি লাল চিহ্ন থাকলেই মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আসবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। একটি মাত্র প্রতীক দেখে কোনও খাবার সম্পর্কে ভোক্তার সম্পূর্ণ ধারণা তৈরি হওয়াও সম্ভব নয় বলে তাদের যুক্তি। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য সহজে পৌঁছে দেওয়াই প্রথম পদক্ষেপ। প্যাকেটের পিছনে ছোট অক্ষরে লেখা জটিল পুষ্টি তথ্য অনেক ক্রেতার কাছেই সহজবোধ্য হয় না। ফলে সামনে পরিষ্কার সতর্কবার্তা থাকলে কেনার সময় সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। শিল্পের পক্ষ থেকেও নিয়ম তৈরির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা রাখার দাবি উঠেছে।

আরও পড়ুন: নাইটক্লাব, ব্যাঙ্ক, মেট্রো স্টেশন সব জায়গায় করা যাবে বিয়ে! জন্মহার বাড়াতে অভিনব সিদ্ধান্ত চিনের
প্যাকেটের সামনে এমন লাল সতর্কীকরণ শেষ পর্যন্ত চালু হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দেশে (India) এই ধরনের ফ্রন্ট-অফ-প্যাক সতর্কবার্তা চালুর আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের আবেদন এবং সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি ওঠার পর FSSAI-এর প্রস্তাব নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়ম কার্যকর হলে চিপস, বিস্কুট বা মিষ্টি পানীয়ের মতো পণ্য কেনার সময় ক্রেতাকে আর শুধু প্যাকেট উল্টে পুষ্টির তালিকা খুঁজতে হবে না। এক নজরেই বোঝা যাবে কোনও পণ্যে চিনি, লবণ বা চর্বির মাত্রা বেশি কি না। তবে শেষ পর্যন্ত এই লাল চিহ্ন ভোক্তাদের আচরণে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে, নাকি এটি শুধুই প্যাকেটের আর একটি লেবেল হয়ে থাকবে—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে নিয়মটি বাস্তবে কার্যকর হওয়ার পরেই।













