বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে শুরু হয়েছে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’ (Consumer Protection Week)। এই আবহে রাজ্যজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে খাদ্যসুরক্ষা দফতর (Department of Food & Safety)। জানা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নির্দেশেই এই ধরপাকড় শুরু হয়েছে।
‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’এ শুরু ধরপাকড়
রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন খাবার রেস্তোরাঁ থেকে উদ্ধার হয়েছে পচা মাংস। একেবারেই হাতে নাতে ধরা পড়ে গিয়েছেন একাধিক রেস্তোরাঁর মালিক-কর্তৃপক্ষ। এইভাবে দিনের পর দিন অগণিত গ্রাহকের কাছে নিম্নমানের আর পচা মাংসের পোঁছে দেওয়াতে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মহলে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
এপ্রসঙ্গে এবার বাংলা হান্টের কাছে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া (Ashok Kirtaniya)। তিনি বললেন, ‘এটা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিগত দিনের গভর্নমেন্টের আমলে বিভিন্ন পৌরসভা, বিভিন্ন পঞ্চায়েত থেকে যেভাবে ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে, ফুড সেফটি লাইসেন্স না দিয়ে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ কিংবা বিরিয়ানির দোকান গুলো খোলা হয়েছে তাতে এদের মধ্যে কম্পিটিশন শুরু হয়েছে কে কত কম দামে মানুষকে খাবার দেবে। যার ফলস্বরূপ এই যে পচা মাংস বা পচা খাদ্য দ্রব্য ইউটিলাইজ হচ্ছে এটা হওয়ার কথা না। ‘
আরও পড়ুনঃ জন্মাষ্টমীর ছুটিতে বদলাচ্ছে মেট্রো পরিষেবা, দেখুন ব্লু-গ্রীন সহ বাকি লাইনের শেষ ট্রেনের টাইমটেবিল
একইসাথে মন্ত্রীর সংযোজন, আমাদের গভর্নমেন্ট পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার স্বাস্থ্যের কথা ভাবছেন এবং আমাদের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট স্বাস্থ্য দপ্তর, ফুড ডিপার্টমেন্ট সবাই ফিল্ডে নেমেছেন এবং এর যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনও পর্যন্ত যাদের রেস্তরাঁ বা দোকানে এই ধরনের খাবার পাওয়া গিয়েছে, পচা মাংস পচা সবজি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুপ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং সেই দোকানকে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তাদের লাইসেন্স ক্যানসেল করে দেওয়া হবে।’
খাদ্য মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আগামীদিনে এই সমস্ত দোকান খুলতে গেলে কিংবা যারা ব্যবসা করতে আসবেন তাদেরকে বলবো আপনারা প্রথমে ট্রেড লাইসেন্স নেবেন তেমনি ফুড সেফটি ডিপার্টমেন্ট থেকে আপনারা লাইসেন্স নেবেন। তারপরেই আগামী দিনে আপনাদেরকে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে।’
রাজ্যজুড়ে পচা মাংস উদ্ধার হওয়ার পর একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে পুজোর মুখে অধিকাংশ দোকানে খাবারের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। তাই উৎসবের মরশুমে মানুষ খাওয়া-দাওয়ার পরে যদি অসুস্থ হয়ে যান তাই আঙুল উঠবে বর্তমান রাজ্য সরকারের দিকেই। এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘বিগত ১৫ বছর ধরে একটা ম্যান প্র্যাকটিস চলে আসছে, একদিনে তো সেটা বন্ধ হবে না। আজকে আমাদের গভর্মেন্ট আমাদের অফিসাররা রাস্তায় নেমেছেন। সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই ধরপাকড় চলবে এবং যেখানে যেখানে অবৈধভাবে এই ব্যবসা গুলো হচ্ছে রেস্তোরাগুলা হচ্ছে প্রত্যেকটা রেস্তরাঁ ভিজিট করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যদি কোথাও অনৈতিক কাজ পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে।’
আরও পড়ুনঃ হয়ে যান সতর্ক! UPI এবং QR কোড ব্যবহারকারীরা ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেরে রাখুন এই কাজ
প্রসঙ্গত ইদানিং রাস্তাঘাটে অসংখ্য বিরিয়ানির দোকান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যার মধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রেই দেখা যায় খুব অল্প দামে বিরিয়ানি বিক্রি হচ্ছে। সেই সমস্ত বিরিয়ানির দাম যেহেতু অত্যন্ত কম হয় তাই গুণগত মান যে ভালো হবে না সেটাই স্বাভাবিক। এপ্রসঙ্গে আশকবাবু জানিয়েছেন, ‘হাজী বিরিয়ানি, দাদা হাজী বিরিয়ানি বিভিন্ন নাম দিয়ে চারিদিকে যে দোকানগুলো খুলছে, এদের বৈধতা কতটুকু আছে তা নিয়ে একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন থেকে যায়। ‘
পাশপাশি তিনি জানিয়ে দিয়েছেন মাঝেমধ্যেই এই ধরনের ধরপাকড় হবে। একইসাথে যারা রেস্টুরেন্ট থেকে খাদ্য গ্রহণ করছেন তাদেরকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন,’আপনারা শুধু কম পয়সায় খাবার পাচ্ছেন বলেই সেখান থেকে খাবার কিনবেন না, বরং তার যথাযথ গুণগতমান যাচাই করবেন তারপরেই আপনারা খাবার সংগ্রহ করবেন।’













