বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বকেয়া ডিএ নিয়ে জট খোলার উদ্দেশে হতে চলেছে বড় বৈঠক। রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে বৈঠক হতে চলেছে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি, মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির আইনজীবী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে। উপস্থিত থাকবেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরাও। কোন বিষয় তুলে ধরবেন তারা? এই নিয়ে বড় আপডেট দিলেন ভাস্কর ঘোষ।
মনিটরিং কমিটির বৈঠকের দিকে তাকিয়ে গ্রান্ট ইন কর্মীরা | Dearness Allowance
সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মতো, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বিকেল ৫টায় বকেয়া ডিএ ইস্যুতে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ দফতরের আইন শাখার তরফে ৩ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ১৯ অগস্ট ২০২৬-এর নির্দেশ মেনে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠক নিয়ে সমাজমাধ্যমে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ পোস্ট করেছেন।
তিনি লিখেছেন, “রোপা-২০০৯ এর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত প্রাক্তন বিচারপতি মাননীয়া ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কাছে আমাদের বক্তব্য সরাসরি তুলে ধরার দাবি আমরা অনেকদিন থেকেই করে আসছি। একবার বৈঠক ঠিক হয়েও সেই বৈঠক বাতিল হয়। পরবর্তীতে আর কোন বৈঠকের তারিখ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী বৈঠকের তারিখ চেয়ে আমরা ইতিপূর্বে অনেকবার চিঠি করেছি বিচারপতি মালহোত্রা কমিটিকে।
যদিও বকেয়া নির্ধারণের সঠিক পদ্ধতি কি হওয়া উচিত তা জানতে চেয়ে কমিটি সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের কাছে হলফনামা আকারে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার নির্দেশ দেয়।”
একসঙ্গে তিনি লেখেন, “সেই নির্দেশ মোতাবেক সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে গত ৫ মে, ২০২৬ সালে আমাদের বক্তব্য হলফনামা আকারে জমা করি। সেখানে মূলত সঠিক হিসেব এবং সরকার পোষিত ক্ষেত্রের কর্মচারীদের দাবি-দাওয়াকেই সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও আমাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কমিটির কার্যাবলীর মধ্যে আমাদের উত্থাপিত সমস্যার সমাধানের কোন উদ্যোগ দেখিনি। বাধ্য হয়েই সুপ্রিম কোর্টে গত শুনানিতে এই বিষয় উত্থাপন করা হয়। এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই মামলাকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যদের মান্যতা দিয়ে কমিটিকে বৈঠক করতে নির্দেশ দেয়।”
ভাস্করবাবু জানিয়েছেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো সেই বৈঠক আগামী ১২/০৯/২০২৬ তারিখে দিল্লিতে মামলাকারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে হবে বলে আজ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর থেকে আমাদের জানানো হয়। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন রাজ্য আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ ও আইনজীবী অভিজিৎ উপাধ্যায়। গ্ৰান্ট ইন এইড কর্মচারীদের সমস্যা সমাধান এখন আমাদের পাখির চোখ।”

আরও পড়ুন: অষ্টম বেতন কমিশনে ২৯ লক্ষ টাকা বেশি পাবেন সরকারি কর্মীরা! কীভাবে, দেখে নিন হিসেব
উল্লেখ্য, মামলার শেষ শুনানিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে, রাজ্যের গ্র্যান্ট-ইন-এইড আওতাভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীরা বকেয়া ডিএ-র বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সরকারি পোষিত কর্মীরা এখনও বকেয়ার কোনো অংশ পাননি। বহু কর্মচারীদের বকেয়া মেটানো হলেও কেন, গ্র্যান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সম্পূর্ণরূপে বাদ পড়লেন সেই প্রশ্ন আদালতেও তোলা হয় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে। মনিটরিং কমিটির পরবর্তী এই বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জট খোলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। মনিটরিং কমিটির বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আপাতত সেই অপেক্ষায় গ্র্যান্ট-ইন-এইডভুক্ত কর্মীরা।













