বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আদলে বিজেপি সরকার এনেছে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)। যা বর্তমানে রাজ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। আর বিতর্কেরও। জুন-জুলাই মাসের পর তৃতীয় মাসেও, বহু ‘যোগ্য’ আবেদনকারী টাকা পাননি বলে অভিযোগ। যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে বঞ্চিতরা। অগাস্ট পেরিয়ে সেপ্টেম্বর চলে আসলেও বিক্ষোভ অব্যাহত।
শিলিগুড়ি থেকে পুরুলিয়া, বিক্ষোভ অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে | Annapurna Yojana
অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা না পেয়ে দিকে দিকে পঞ্চায়েত বা পুরসভা কার্যালয়ে বিক্ষোভ, কোথাও ঘেরাও করা হচ্ছে বিজেপি নেতাকে, তো কোথাও রাস্তায় শুয়ে মহিলাদের কান্নার ধুম। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ১ ব্লকের গাড়াফুসড় গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ দেখান ওই এলাকার বহু মহিলা। শতাধিক মহিলার বিক্ষোভ ঘিরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
এই একই অভিযোগে পুরুলিয়া-রাঁচি ৩২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন অন্য এলাকার কয়েক জন মহিলা। পরে পুলিশ প্রশাসন গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়। পরে পুলিশি আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তাঁরা। তবে বিক্ষোভ কেবল পুরুলিয়ায় নয়, মালদা, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অন্নপূর্ণা যোজনা না পাওয়া নিয়ে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে।
কিছুদিন আগেই শিলিগুড়িতে বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের কার্যালয়ের সামনে নথিপত্র নিয়ে জড়ো হয়েছিলেন কয়েকশো মহিলা। তাদেরও অভিযোগ একই। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ঢোকেনি অন্নপূর্ণার টাকা। শুক্রবার আসানসোলের দক্ষিণ বিধানসভার বার্নপুরের ৮ নম্বর বস্তি এলাকায় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতেও টাকা না পাওয়ায় অভিযোগ জানাতে হাজির হন বহু মহিলা।

আরও পড়ুন: ‘মতামতের সুযোগ দিতে হবে সামনাসামনি..,’ পোর্টাল চালু, সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বড় দাবি সামনে
গত মাসে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আবেদন করবেন, পেয়ে যাবেন। জুনে ২৮ লাখ পেয়েছিলেন। জুলাইয়ে ১ কোটি ১৯ লাখ পেয়েছেন। অগস্টে ১ কোটি ৪৫ লাখ লোককে দিয়েছে। প্রসেস আছে। করবে। এত তাড়াহুড়োর কী আছে।’ যাঁরা পাওয়ার যোগ্য, তাঁরা পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ‘ধৈর্য রাখবেন, যাঁরা পাওয়ার, তাঁরা ঠিক পাবেন। যাঁরা আমাদের ভোট দেননি, জীবনে দেবেন না। তাঁরা ওই রাস্তায় চিৎকার করুন আর গড়াগড়ি খান। তাতে কোনও লাভ হবে না। এই সরকার মাথা নীচু করার সরকার নয়।’ এবার কবে বঞ্চিত ‘যোগ্যরা’ প্রকল্পের আওতায় আসবেন সেটাই দেখার।













