বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা। তারপরই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পুজো নিয়ে বড় বৈঠকে বসতে চলেছে রাজ্য সরকার। তার আগেই ২০২৬ সালের পুজোকে ঘিরে সরকারের বড় পরিকল্পনা সামনে এসেছে। কলকাতার পুজোকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশে থাকা বাঙালিদেরও উৎসবের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
Durga Puja 2026 : ৩ হাজার ড্রোনে আকাশে ফুটবে দুর্গার অবয়ব
রাজ্যের পর্যটন দফতরের এই বিশেষ আয়োজনের নাম ‘বিশ্বজুড়ে বাঙালির আবেগ-দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হবে অনুষ্ঠান। ইডেন গার্ডেন্সে থাকবে মহিষাসুরমর্দিনী, বাংলার লোক ও শাস্ত্রীয় সংস্কৃতির অনুষ্ঠান। সন্ধ্যায় প্রথম সারির শিল্পীদের নিয়ে হবে মেগা কনসার্ট। ঢাকের বাদ্যি দিয়ে বিশ্বরেকর্ড করার চেষ্টাও হতে পারে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই ৩ হাজার ড্রোনের লাইট শো। ড্রোনের আলোয় কলকাতার আকাশে ফুটে উঠবে দুর্গার অবয়ব। পাশাপাশি পুজো (Durga Puja 2026) ও বাংলার ঐতিহ্যের নানা গল্প দেখানো হবে। এর জন্য স্টোরিবোর্ড, থ্রি-ডি ভিজ্যুয়াল, অ্যানিমেশন ও আবহসঙ্গীত ব্যবহার করা হবে। ড্রোনের সঙ্গে মঞ্চের অনুষ্ঠানেরও সমন্বয় থাকবে। তবে DGCA-র অনুমতি এবং নিরাপত্তা মহড়ার পরেই এই শো করা যাবে।
বিদেশের বাঙালিদের যুক্ত করতে থাকবে ‘গ্লোবাল বেঙ্গলি কানেক্ট’ বা ‘ঢাক কানেক্ট’। ভারতীয় দূতাবাসগুলির সাহায্যে প্রবাসী বাঙালি সংগঠন ও অনাবাসী ভারতীয়দের অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হবে। কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে লাইভ ফিডের ব্যবস্থা থাকবে। অনুমতি মিললে কলকাতা ও বিদেশের মানুষের সরাসরি কথাবার্তাও হবে।
অষ্টমীর দিন ধুনুচি নাচের পাশাপাশি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপত্যে বিশেষ আলো লাগানো হবে। তবে সেখানে বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনও মঞ্চ বা জমায়েত করা যাবে না। পাশাপাশি বড় স্টেডিয়াম বা অডিটোরিয়ামে চার ঘণ্টার ‘গ্র্যান্ড দুর্গাপুজো কনসার্ট’ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ঢাক, ধুনুচি নাচের সঙ্গে ছৌ, বাউল, ঝুমুর, কীর্তন, রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নেপালি সংস্কৃতি থাকবে। তুলে ধরা হবে বাংলার হস্তশিল্প, খাবার ও থিম প্যান্ডেলও।
এত বড় আয়োজন হলেও পুজোর ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্যে যাতে কোনও আঘাত না লাগে, সেদিকে নজর থাকবে। প্রয়োজনে পুরোহিত, ধর্মীয় আচার-বিশেষজ্ঞ ও ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বন্ধ, বর্জ্য আলাদা করা, ডিজিটাল আমন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মতো বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ নারকেল গাছ লাগালেই মিলবে টাকা! সরকারের এই সুবিধা কীভাবে পাবেন? জানুন
ভবিষ্যতে এই আন্তর্জাতিক আয়োজনকে প্রতি বছরের কর্মসূচি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মূল লক্ষ্য, বিশ্বের বাঙালিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং পুজোর (Durga Puja 2026) সময় আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বাংলায় টেনে আনা।













