মনের জেদ হারিয়েছে পোলিওর প্রতিবন্ধকতাকে! চাষাবাদের মাধ্যমে কোটি টাকার আয় গেনাভাইয়ের

Published on:

Published on:

Success Story of Genabhai Dargabhai Patel will surprise you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুজরাটের (Gujarat) বানাসকান্থা জেলার ছোট্ট গ্রাম সরকারি গোয়ালিয়ার বাসিন্দা ৬২ বছরের গেনাভাই দরগাভাই প্যাটেল (Genabhai Dargabhai Patel) আজ কৃষিক্ষেত্রে সাফল্যের (Success Story) এক পরিচিত নাম। স্থানীয় মানুষ তাঁকে ভালোবেসে ‘ডালিম দাদা’ নামে ডাকেন। মাত্র এক বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তাঁর এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং প্রচলিত কৃষিকাজে শারীরিক পরিশ্রমের সমস্যা এবং নিজের এলাকার তীব্র জলসংকট তাঁকে চাষের নতুন পথ খুঁজতে বাধ্য করে। ২০০৫-০৬ সালে ডালিম চাষ নিয়ে শুরু করা তাঁর একটি ছোট পরীক্ষা পরবর্তীকালে পুরো জীবনটাই বদলে দেয়। বর্তমানে বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা এই কৃষক ২০১৭ সালে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী সম্মানেও ভূষিত হয়েছেন।

গেনাভাই দরগাভাইয়ের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

গেনাভাইয়ের পরিবার আগে গম, জিরে, ক্যাস্টর এবং বাজরার মতো প্রচলিত ফসল চাষ করত। কিন্তু তাতে বছরে আয় সীমাবদ্ধ থাকত প্রায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে। তার উপর এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলের স্তর প্রায় ১,০০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষিকাজ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল। পোলিওর কারণে ভারী শারীরিক শ্রমের কাজও তাঁর পক্ষে সহজ ছিল না। এই পরিস্থিতিতে তিনি ইন্টারনেট, বইপত্র এবং মহারাষ্ট্রের নাসিকের কৃষকদের কাছ থেকে ডালিম চাষ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। জানতে পারেন, তুলনামূলক কম জলেই এই ফলের চাষ করা সম্ভব। এরপর ২০০৫-০৬ সালে নাসিক থেকে প্রতিটি ৫ টাকা দরে ১৮ হাজার ডালিমের চারা কিনে আনেন। প্রায় ৯০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে অনুর্বর জমিতে শুরু হয় তাঁর নতুন যাত্রা (Success Story)।

আরও পড়ুন: বাংলার ২ শিক্ষকের পরম প্রাপ্তি! রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পাচ্ছেন জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার, জানুন তাঁদের পরিচয়

শুরু থেকেই গেনাভাই চাষে জল ও মাটির সঠিক ব্যবহারের দিকে বিশেষ নজর দেন। তিনি ড্রিপ সেচ ব্যবস্থা চালু করেন এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মাটির পরিচর্যা করতে থাকেন। রোদে গর্ত খোলা রেখে মাটির ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতেন। গাছের ছায়া দেখে কোথায় প্রাকৃতিক সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন, সেটিও নির্ধারণ করতেন। ফলের গুণমান ও উৎপাদন বাড়াতে ব্যবহার করেন ‘ফল পাতলাকরণ’ পদ্ধতি। অর্থাৎ প্রতিটি গাছে অতিরিক্ত ফল না রেখে প্রায় ১০০ থেকে ১২৫টি উন্নত মানের ফল রাখা হয়। বর্তমানে গোবর ও গোমূত্র থেকে তৈরি ‘জীবামৃত’ এবং ‘ঘন জীবামৃত’-এর মতো উপকরণ ব্যবহার করে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই ডালিম চাষ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বাগানের গাছগুলি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে শুরু করে ফলন এবং আয়ের হিসাবও। একর প্রতি প্রায় ১২ টন ডালিম উৎপাদন করতে শুরু করেন গেনাভাই। বর্তমানে তাঁর ১২ একরের খামার থেকে বছরে প্রায় ১৪৪ টন ডালিম উৎপাদিত হয়। প্রচলিত ফসলে যেখানে একর প্রতি আয় ছিল মাত্র ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা, সেখানে ডালিম চাষে একর প্রতি প্রায় ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা লাভের কথা জানা যায়। প্রতি কেজি ডালিমের গড় বাজারদর ৬০ থেকে ৭০ টাকা ধরলে তাঁর খামারের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৯৬ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকায় পৌঁছয়। এখন ফসল বিক্রির জন্য তাঁকে আর বাজারে ঘুরতে হয় না। বরং ব্যবসায়ীরাই তাঁর খামারে এসে বাগানের ফল কেনার জন্য দরদাম করেন। তাঁর উৎপাদিত ডালিম দেশের দিল্লি, কলকাতা ও আহমেদাবাদের মতো শহরে পৌঁছনোর পাশাপাশি দুবাই, মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশেও যায়।

Success Story of Genabhai Dargabhai Patel will surprise you.

আরও পড়ুন: শিক্ষক দিবসে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিরাট ঘোষণা! চাকরিপ্রার্থীদের চিন্তা দূর করে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

 

নিজে সাফল্য (Success  Story) পাওয়ার পর সেখানেই থেমে থাকেননি গেনাভাই। কৃষকদের নতুন পদ্ধতি শেখাতে নিজের খামারেই একটি ‘অনারশালা’ চালু করেছেন, যেখানে কৃষক ও কৃষিবিজ্ঞানীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাঁর খামার পরিদর্শন করেছেন বলে জানা যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবিও রয়েছে। তাঁর উদ্যোগে বানাসকান্থা, কচ্ছ এবং রাজস্থানের প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ডালিম চাষের বিস্তার ঘটেছে। কৃষকদের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু পরিবার পাকা বাড়ি তৈরি করতে পেরেছে, কৃষিকাজে ট্র্যাক্টর এসেছে এবং সন্তানদের শিক্ষার সুযোগও বেড়েছে। কৃষিক্ষেত্রে তাঁর এই দীর্ঘমেয়াদি অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই ২০১৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির হাত থেকে পদ্মশ্রী সম্মান পান গেনাভাই।