রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তৎপর আমেরিকা! ৩ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা পুতিনের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাশিয়া (Russia) ও ইউক্রেনের (Ukraine) দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থামাতে ফের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে আমেরিকা (America)। আগের দফার উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার পর এবার আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির রাস্তা খুঁজতে মস্কোর সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। সেই লক্ষ্যেই শনিবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। তাঁদের সফর ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই বড় ঘোষণা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী তিন দিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের সামরিক হামলা চালাবে না রুশ সেনা। মার্কিন দূতেদের মস্কো সফরের সময় এই সিদ্ধান্তকে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

৩ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা রাশিয়ার (Russia)

প্রায় চার বছর ধরে রাশিয়া (Russia) ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত চলছে। যুদ্ধ থামানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারবার আবেদন জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনও সমাধান মেলেনি। এর আগে আমেরিকার তরফে যুদ্ধবিরতি নিয়ে একাধিক উদ্যোগ এবং ঘোষণা সামনে এলেও বাস্তবে সংঘর্ষ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে হামলার মাত্রা বেড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক সংঘাতও চলতে থেকেছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ফের আলোচনার টেবিলে মস্কোকে আনার চেষ্টা করায় আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন মার্কিন দূতেদের এই সফরের দিকে।

আরও পড়ুন: পৃথিবীর মানচিত্রে বদল! রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় পাশ ‘ইকুয়াল আর্থ’, বড় করে দেখানো হল কোন মহাদেশকে?

মার্কিন প্রতিনিধিদের মস্কো সফরের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন। শুক্রবার তিনি জানান, মার্কিন দূতেদের সফর চলাকালীন কিয়েভের তরফে কোনও বিমান হামলা চালানো হবে না। একইসঙ্গে মস্কোকেও একই ধরনের পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি। জেলেনস্কি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে জানান, আমেরিকার প্রতিনিধিদের সফর এবং আলোচনার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রাখা উচিত। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, অন্তত আলোচনার সময়টুকু দুই পক্ষের কাছ থেকেই সংযম আশা করছে কিয়েভ।

এর পরেই শনিবার রাশিয়ার তরফে এল বড় ঘোষণা। পুতিন জানিয়েছেন, আগামী তিন দিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনী কোনও হামলা চালাবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে অন্তত সাময়িক সময়ের জন্য সংঘাতের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও তিন দিনের এই বিরতি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে পরিণত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ এর আগেও সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা সংঘর্ষ কমানোর নানা উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারেনি। তাই এবারও শুধু ঘোষণার দিকে নয়, বাস্তবে দুই পক্ষ কতটা তা মেনে চলে, সেদিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

America is eager to stop the Russia-Ukraine war!

আরও পড়ুন: ভয়াবহ ভূমিধসে অবরুদ্ধ নদীর গতিপথ! ফের হড়পা বানের আশঙ্কা নেপালে

তবে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারের মস্কো সফর এবং পুতিনের তিন দিনের হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা—দুটি ঘটনাই একই সময়ে সামনে আসায় শান্তি আলোচনাকে ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছে। আমেরিকার এই নতুন উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত রাশিয়া (Russia) ও ইউক্রেনকে আলোচনার পথে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যুদ্ধের অবসান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা থাকলেও সাময়িক হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত অন্তত কূটনৈতিক আলোচনার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। আগামী কয়েক দিন তাই মস্কো-ওয়াশিংটন এবং কিয়েভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।