বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি সাংবাদিকদেরসাথে এক সাক্ষাৎকারে বাংলার উন্নয়ন নিয়ে কথা বললেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। বিধানসভা ভোটে জিতে বিজেপি বাংলায় সরকার গঠনের পর থেকেই একাধিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি হল অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেনিয়ম থাকলেই তার উপর অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে। এবার সেই প্রসঙ্গ ও বাংলার উন্নয়ন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন অগ্নিমিত্রা।
জিরো টলারেন্স নীতিই আসল লক্ষ্য : অগ্নিমিত্রা পাল
এদিন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রথমেই তিনি জানান, ভবিষ্যতে বাংলার এটাই স্বপ্ন যে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স। মহিলা অত্যাচার, সাধারণ নাগরিককে অত্যাচার, শুধু মহিলাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে তা তো নয়! সাধারণ ভাইদের, জ্যাঠাদের, কাকাদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। কেউ বিজেপি করেছে বলে অত্যাচারিত হয়েছে। কেউ আবার কোনো দল করেনি, নিজের হক চেয়েছে। আমার বাড়ি দখল করে নিচ্ছে, জমি দখল করে নিয়েছে, সে প্রতিবাদ করেছে তাঁকে কেস দিয়ে দমন করা হয়েছে। সুতরাং জিরো টলারেন্স টু এভরিথিং হুইচ ইস ইললিগাল।
এরপর তিনি আরও বলেন, আগের সরকার বেআইনি জিনিসগুলোকে বৈধ করে দিয়েছে সুন্দরভাবে সাজিয়ে। বরানগরে যখন বেআইনি ২৭টা বিল্ডিং নিয়ে লাইভ টেলিকাস্ট করে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আপনারা কেন বেআইনি বিলিডং করেছেন? আপনারা তো প্রোমোটার। কেউ কেউ তো প্রথমবার বিল্ডিং তৈরী করছেন। তাঁরা বলছেন, ম্যাডাম এটাই তো সিস্টেম। বরানগর, বালি থেকে হাওড়াতে তো এটাই সিস্টেম। চারতলার জন্য প্ল্যানিং দেবেন। আটতলার জন্য প্ল্যানিং দিলে পাশ হবে না। চারতলার প্ল্যানিং পাশ হয়ে যাবে। তারপর আপনাকে একটা ভাউচারে টাকা লিখে দেওয়া হবে যে কতটাকা দিতে হবে। তারপর আপনি আবার চারতলা তৈরি করবেন। এদিকে আট তলা বিল্ডিংয়ের জন্য আট তলার ফাউন্ডেশন নেই। চারতলার ফাউন্ডেশন রয়েছে বাকিটা টাকা দিয়ে আট তলা করা হচ্ছে। এই দুর্নীতি আমরা অ্যালাও করব না।
আরও পড়ুনঃ ‘মানুষ ভাবত এটা কোন রাজনৈতিক দল!’ শিক্ষক দিবসে পথচলা শুরুর কাহিনী শোনালেন শমীক ভট্টাচার্য
বিজেপি সরকার আসতে কেন খুশি আমজনতা?
এর উত্তরে তিনি জানান, সরকার আসার পর মানুষ খুশি হবেন কারণ এই সরকার সবার। এই সরকার শুধু হিন্দুদের, শুধু মুসলমানদের নয়! বিগত দিনের সরকারগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের ছিল। এই সরকার সব ধর্মের, সব জাতির, সব মানুষের। এই সরকারে কোনো ভয় নেই। সরকারকে নিন্দা করার হলেও সেটাও আপনি নির্দ্বিধায় বলুন। আর প্রশংসা করা হলেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলুন। আপনাকে কেউ ভয় দেখাবে না বা কেস দেবে না। আপনি কথা বললে আপনাকে কোন গাঁজার কেস দেবে না, অ্যারেস্ট করবে না পুলিশ।
একইসাথে তিনি আরও বলেন, আজকে হনূমান জয়ন্তী পালন করতে গেলে হাইকোর্ট যেতে হচ্ছে, সরস্বতী পুজোর জন্য হাইকোর্ট যেতে হচ্ছে। এসবও আমাদের দেখতে হচ্ছে! দুর্গাপুজোর ভাসান করতে দেওয়া হল না। তবে এখন কোনো ভয় নেই। মহরম যেভাবে করবেন দুর্গাপুজোর ভাসানও সেইরকম নির্দ্বিধ্বায় হবে। আনন্দ করে সবাইকে নিয়ে উৎসব হবে। কারণ আমাদের কাছে মেকি রাজনীতি করে পলিটিক্স করাটা প্রায়োরিটি নয়। আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেভেলপমেন্ট বা উন্নয়ন।
কেমন উন্নয়ন চায় বিজেপি সরাকর?
অগ্নিমিত্রা পালের মতে, পাড়ার মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐ উন্নয়ন নয়। অ্যাকচুয়াল উন্নয়ন, যেটা মানুষ দেখবে আর দেখছে। আজকে রুটি, কাপড় ও বাসস্থানের জন্য একটা সাধারণ মানুষ সরকার চায়। মানুষ চাই সরকার যাতে আমাদের পুরো রাজ্যের ও দেশের মানুষের চাহিদা যেন পূরণ করতে পারে। শিক্ষা বলুন বা বাসস্থান আগের সরকার ভেঙে দিয়েছে। ফুটপাতে দুধ গরম করা নিয়ে রাজনীতি হয়েছে, কিন্তু সেই মানুষগুলো ফুটপাতে কেন ছিল? আজ আঠাশ বছর, চৌত্রিশ বছর, পনেরো বছর পর ফুটপাতে কেন থাকতে হয়েছে? সেটার কিন্তু কোনো উত্তর নেই। রাজনীতি করা হয়ে গেছে।
বিগত সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি বলেন, আজকে বাড়ি বাড়িতে মানুষের জল পৌঁছায়নি কেন? এতবছর এত বড় বড় সরকার এসেছে কেন তাঁরা বাড়িতে বাড়িতে জল পৌঁছে দিতে পারেননি? কেন প্রতিটা জেলার সামনে এমন বড় বড় ময়লার পাহাড়? কেন পরিষ্কার করতে পারেননি? কেন আপনাদের কোনো পলিসি ছিল না? কেন শৌচালয় বানিয়ে দেন নি? কেন আজও গ্রামেগঞ্জে দিনে ও রাত্রি ৩টের সময় মহিলাদের মাঠে ঘটে নালিতে পায়খানা করতে হচ্ছে? আমি প্রশ্ন করতে চাই, আগের সরকারকে। সেই জন্যই আজকে বিজেপি আসায় মানুষ খুশি। কারণ আমরা সকাল থেকে রাত্রি অবধি চেষ্টা করছি মানুষ যেতে এই সুযোগ সুবিধা গুলো পায়। এছাড়া আর কি বললেন অগ্নিমিত্রা? জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।













