বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি শিক্ষক দিবস (Teachers Day) উপলক্ষে বারাসাতে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এদিন শুরুর দিনের সংগ্রাম থেকে শিক্ষকদের নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন তিনি। কি কি বললেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
শিক্ষক দিবসে বক্তৃতা রাখলেন শমীক ভট্টাচার্য
এদিন শমীক ভট্টাচার্য বলেন, দেখুন আমার জ্ঞান বিদ্যা বুদ্ধি আমার উচ্চতার মতোই সীমিত। শিক্ষকদের সামনে বক্তৃতা করাটা নিঃসন্দেহে একটি ঔদ্ধত্ব এবং ধৃষ্টতাই হবে আমার জন্য। কিন্তু যেকোনো কারণ রাজনৈতিক কারণে আমাকে এখানে বলতে বলা হয়েছে। আমি আমার মত মত করে দুই একটি কথা আপনাদের সামনে বলতে চাই। দেখুন আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। এর বাইরে আমার অন্য কোন পরিচয় নেই। একটা অসম্ভবের সম্ভাবনার যুগে আমরা কতিপয়ে মানুষ পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা ধরতাম। মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে ভাবতো যে এরা কোন রাজনৈতিক দল। এরা তো কংগ্রেসকেও আক্রমণ করছে, সিপিআইএমকেও আক্রমণ করছে। এদের আসল পরিচয়টা কি?
এরপর তিনি আরও জানান, একটা স্ট্রিট কর্নারে এক ঘন্টা বক্তৃতা করলে আধ ঘন্টা ধরে বোঝাতে হতো যে আমরা জনতা পার্টি নই। আমরা ভারতীয় জনতা পার্টি। আমাদের ভোট শতাংশ এক এর নিচে থাকলেও আমরা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে থাকতে এসেছি। চলে যেতে আসিনি। আমাদের দলের যিনি প্রাণপুরুষ যিনি দল প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনিও একজন শিক্ষক ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ ডিজেল সরবরাহকারী হয়ে উঠল ভারত! রাশিয়াতেও বাড়ছে ভারতীয় জ্বালানির চাহিদা
এখানেই শেষ নয়, তিনি তাঁর বক্তৃতায় আরও বলেন, সমাজ সচেতক হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে। ৩৩ বছর বয়সে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর প্রয়াণের পর আরেকজন মাস্টার মশাই। আচার্য দেবপ্রসাদ ঘোষ, তিনি একই সঙ্গে ভারতীয় জনসংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভাপতি ছিলেন। যিনি নিজে কোনদিন ম্যাট্রিক থেকে শুরু করে স্নাতকত্ব স্তর পর্যন্ত কোনদিন দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেননি। আচার্য দেবপ্রসাদ ঘোষের দিদি এবং দাদা স্বাধীনতা সংগ্রামী হওয়ার কারণে তাকে ব্রিটিশরা কোনদিন স্কলারশিপ দেননি। এই মাস্টার মশাইদের আবহই আমাদের দল তৈরি হয়েছিল।
এরপর অতীতের কথা প্রসঙ্গে শমীকবাবু জানান, স্বাধীনতা আন্দোলনের মঞ্চকে রাজনৈতিক দলের মঞ্চে রূপান্তরিত করে দিল কংগ্রেস। কংগ্রেস দুর্নীতির যে পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল দলকে ১৯৩২ সালে স্থানীয় বিভিন্ন বডির নির্বাচনে কংগ্রেসের দুর্নীতি দেখে গান্ধীজি পর্যন্ত বলেছিলেন, কংগ্রেসকে ডিজলভ করে দেওয়া উচিত। সেই কংগ্রেস পরবর্তীকালে ভারতবর্ষে দীর্ঘদিন একটা নিরবিচ্ছিন্ন শাসন চালিয়ে গেল। আর যে শাসন চালিয়ে গেল, তারা ব্রিটিশের কলোনিয়াল হ্যাংওভার থেকে কোনদিন মুক্তি পেল না। আমাদের মাস্টার মশাইদের শেখানো হলো এবং মাস্টার মশাইও যখন ছাত্র ছিলেন তারাও পড়লেন যে ভারতবর্ষ পরাধীন ছিল ১৯০ বছর। ভারতবর্ষের পরাধীনতা হাজার বছরের পরাধীনতা নয়।
এছাড়াও তিনি আরও বলেন, যে সিরাজুদ্দুল্লাহ কোনদিন বাংলায় কথা বলতে পারতেন না ভালো করে। যে সিরাজদোল্লার বাবা কার্যত বাংলা জানতেন না এবং যার মা কোনদিন পশ্চিমবঙ্গে আসেননি সেই সিরাজদল্লাকে ভারতের শেষ স্বাধীন নবাব আমরা বলে দিলাম কিন্তু আমরা বাঙালিরা আমাদের বারাসাতের অনতি দূরে আমাদের প্রতাপাদিত্যের নামটা ভুলে গেলাম। আমরা ২৩শে জানুয়ারি একটু রাজনীতি রাজনীতি খেলা করি আর ২৫শে বৈশাখে একটু সংস্কৃতি সংস্কৃতি খেলা করি। শংখ ঘোষের একটা কবিতা ছিল যে কবি মঞ্চে মঞ্চে তুমি শুধুই কি ছবি? তুমি শুধু আজ ২৫শে বৈশাখ আর বাইশে শ্রাবণ। এই অবস্থাটা তৈরি করে দেয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা থেকে আমাদের অনেক দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফের অ্যাকশনে দুর্নীতিদমন কমিশন! ফিরহাদের পর প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে হানা
শুধু তাই নয়, বর্তমান শিক্ষানীতিতেও বৈরিকীকরণ হয়েছে বলে শমীক বাবু জানান, আজকে নয়া শিক্ষানীতি নিয়ে যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিরোধিতা করছে শিক্ষার বৈরিকীকরণ হচ্ছে বলে। কংগ্রেস দিকে দিকে প্রচার করে বেড়াচ্ছে যে ওয়ার্স্ট এভার এক্সাম্পল অফ কমিউনাল পলিটিক্স। আগে সে সময় বুঝতে হবে যে জাতি শূন্যেরা আবিষ্কার করেছে, যে জাতি শল্য চিকিৎসা শিখিয়েছে, যে জাতি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের সাড়েতন লক্ষ ওষুধের কথা বলে গেছে। যার উপরে সাড়েতন হাজার ওষুধ নিয়ে এখন কাজকর্ম হয়, যারা বায়োনোমিয়াল ক্যালকুলাস শিখিয়েছে, যারা ট্রিগনোমেট্রি শিখিয়েছে, জিওমেট্রি শিখিয়েছে, শব্দকে গুছিয়ে বাক্য তৈরি করবার জন্য গ্রামার পানিনি শিখিয়েছে, সেই দেশের কোন কারিকুলাম ছিল না। সেই দেশের কোন শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, যে দেশ অস্ট্রোনমি শেখালো, যে দেশ আধুনিক পৃথিবীতে স্টিল তৈরি করা শেখালো, আজকে সেই দেশের সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়ে গিয়েছিল পরিকল্পিতভাবে কংগ্রেসের শাসন। কারণ কংগ্রেস একটা নির্দিষ্ট ধারণার বশবর্তী ছিল। কংগ্রেসের আন্দোলন করে যারা জেলে যেতেন স্বাধীনতার সময় তারা বেরিয়ে আসতেন আবার কমিউনিস্ট হয়ে।
পরবর্তীতে কংগ্রেস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সমীকবাবু জানান, কংগ্রেসের একজন থিংক ট্যাংক মনিশংকর আইয়ার নব্বইয়ের দশকে যখন একটা বিতর্ক চলছে কালচারাল ন্যাশনালিজম ভারসেস সিউডোসেকুলারিজম তখন তিনি বক্তৃতায় বলছেন, কংগ্রেসের অবস্থান কি? আই মনিশংকর আইয়ার বরং ইন এ রেসপেক্টেড ব্রাহ্মণ ফ্যামিলি।, আই লেফট মাই সেক্রেড ফেইথ, ম্যারেড টু এ খ্রিস্টান গার্ল আই অ্যাম সেকুলার। এই চিন্তাভাবনা থেকেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে দেওয়া হয়েছে। ওয়েস্ট ইজ দা বেস্ট, আমাদের কিছু নেই। রোয়েট কেবলিক লিখেছিলেন, ইস্ট ইস্ট ওয়েস্ট ইজ ওয়েস্ট ইনশাল নেভার মিট। কিন্তু ভারতবর্ষের বই মধ্যপ্রাচ্য হয়ে গিয়ে যদি ইউরোপে না পৌঁছতো ইউরোপ আজকের পৃথিবীর সভ্যতার আলো দেখতে পেত না! এখানেই শেষ নয়, আরও কি কি বললেন শমীক ভট্টাচার্য? দেখে নিন নিচের ভিডিওতে।













