বাংলাহান্ট ডেস্ক: দিল্লির (Delhi Building Collapse) সত্যা নিকেতনে ভয়াবহ বাড়ি ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭। রবিবার দুপুরে ভারী বৃষ্টির মধ্যেই আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছ’তলা একটি ভবন। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে জোরকদমে চলছে তল্লাশি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে ভয়াবহ বাড়ি ধসের (Delhi Building Collapse) ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭:
রবিবার দুপুর সাড়ে ১টা নাগাদ চাণক্যপুরীর কাছাকাছি মোতিবাগ এলাকার সত্যা নিকেতনে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের আটটি ইঞ্জিন। পরে উদ্ধারকাজে গতি আনতে আরও কয়েকটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা মানুষদের খোঁজে কাজ শুরু করেন দমকলকর্মী, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ওই ভবনটিতে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া পেইং গেস্ট হিসেবে থাকতেন। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে ছিলেন। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা (Delhi Building Collapse)।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, শুক্রবার থেকে দিল্লিতে টানা বৃষ্টির জেরে ভবনটির বেসমেন্টে জল জমে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, বেসমেন্টে কাজ এবং জল জমে থাকার কারণে বাড়িটির ভিত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তার পরেই ভারী বৃষ্টির ধাক্কায় কাঠামোটি আর ভার সামলাতে পারেনি। তবে ঠিক কী কারণে ভবনটি ভেঙে পড়ল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে বাড়িটি নির্মাণের সময় নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুরসভার তরফে দাবি করা হয়েছে, আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনুমোদিত উচ্চতা ১৭.৫ মিটার। কিন্তু ভেঙে পড়া ভবনটির উচ্চতা তার তুলনায় অনেকটাই বেশি ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। ফলে নির্মাণে কোনও ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই বাড়ির মালিকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর বাড়ি গুরুগ্রামে। মালিকের সন্ধানে ইতিমধ্যেই একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: হাইকোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টেও মিলল না স্বস্তি! ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে ফের ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল
স্থানীয়দের বক্তব্য, দিল্লি (Delhi Building Collapse) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছের এই এলাকায় বহু বাড়ি মেস ও পেইং গেস্ট থাকার জন্য ব্যবহার করা হয়। বেশিরভাগ বাড়ির নিচেই বেসমেন্ট থাকায় বর্ষাকালে সেখানে জল জমার সমস্যাও রয়েছে। এই ভবনটিতেও অন্তত ৫০ জন পড়ুয়া থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। পাশের একটি বাড়িতে থাকা এক পেইং গেস্ট পড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তিনি ছুটে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে বেশ কয়েকজনের আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। ফলে উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ—ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে রয়েছেন কি না, এখন সেই আশাতেই অপেক্ষা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিজনেরা।













