বাংলা হান্ট ডেস্ক: লাদাখের কাছেই পড়শি দেশ চিন (China) এবার একটি বড় কাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, চিন তার পশ্চিমী মরু অঞ্চলে একটি ফ্লাইট-টেস্ট ফ্যাসিলিটির সম্প্রসারণ করছে। যার লক্ষ্য হল পরবর্তী প্রজন্মের সামরিক বিমানের ডেভেলপমেন্ট ত্বরান্বিত করা। চিন সম্প্রতি ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। কিন্তু সেগুলি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তাই, চিন এগুলি একটি গোপন স্থানে পরীক্ষা করতে চায়। যাতে সেগুলি বিশ্বের দৃষ্টির আড়ালে থাকে। আসলে, চিন দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকার উন্নত বিমান শক্তির নিরিখে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা করে আসছে। তবে, ভারতের (India) লাদাখের (Ladakh) কাছাকাছি এই টেস্টিং ফ্যাসিলিটির অবস্থানের কারণে ভারতের উদ্বেগও বাড়তে পারে।
লাদাখের কাছে চিনের (China) নতুন চাল!
SCMP-র তথ্য অনুযায়ী জিনজিয়াং-এর লোপ নুর ফ্যাসিলিটির স্যাটেলাইট চিত্রে ৪ টি বড় হ্যাঙ্গার, নতুন ট্যাক্সিওয়ে, একটি বৃত্তাকার প্যাড (যা ইঞ্জিন পরীক্ষা বা বিমান ঘোরানোর জন্য ব্যবহৃত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে) এবং ফুয়েল-স্টোরেজ ইনফ্রাস্ট্রাকচারের নির্মাণকাজ দেখা গেছে। চিনের বেশ কয়েকটি উন্নত যুদ্ধবিমান কর্মসূচিকে একযোগে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, লোপ নুরের দুর্গম অবস্থান চিনকে তার সংবেদনশীল ডিজাইনগুলির টেস্টিং এবং সেগুলিকে জনসাধারণের নজরদারি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

লোপ নুরে জে-৩৬ এবং জে-৫০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং মিচেল ইনস্টিটিউটের অ্যারোস্পেস অ্যান্ড চায়না স্টাডিজের সিনিয়র ফেলো জে. মাইকেল ডাহম SCMP-কে জানিয়েছেন যে, ওই স্থানে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের অগাস্টের দিকে। প্রায় একই সময়ে সেখানে প্রথম লেজবিহীন বিমান দেখা যায়। যেটিকে ব্যাপকভাবে চিনের জে-৩৬ ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বলে মনে করা হয়। তিনি জানান, ‘১৭ দিন পর, জে-এক্সডিএস বা জে-৫০ নামে পরিচিত আরেকটি পরবর্তী প্রজন্মের বিমান ওই স্থানে দেখা গিয়েছিল।’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর আবেদনেই বাজিমাত? ভারতে লাফিয়ে কমল সোনার চাহিদা, সামনে এল পরিসংখ্যান
লোপ নুর বিমানঘাঁটির আয়তন দ্বিগুণ হয়েছে: ডাহমের মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঘাঁটিটিতে প্রায় ৬০,০০০ বর্গফুট (৫,৫৭০ বর্গমিটার) হ্যাঙ্গার স্পেস এবং ৩,০০,০০০ বর্গফুটেরও বেশি অতিরিক্ত পরিকাঠামো যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে লোপ নুর ঘাঁটির মোট আয়তন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন এই নির্মাণকাজের মধ্যে একটি টেস্টিং ও ইভ্যালুয়েশন জোন এবং কর্মীদের থাকার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। SCMP জানিয়েছে, ওই স্থানটিতে আগে থেকেই একটি ৫ কিলোমিটারের রানওয়ে ছিল এবং এটি অন্তত ২০২০ সাল থেকে চিনের পুনঃব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
আরও পড়ুন: শত্রুদের ঘুম উড়িয়ে আরও বাড়বে ভারতের শক্তি! ১.১০ লক্ষ কোটির সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন কেন্দ্রের
চিন এইচ-২০ স্টেলথ বোমারু বিমানের পরীক্ষা চালাবে: লোপ নুরের সম্প্রসারণের পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে যে, চিন এইচ-২০ স্টেলথ পস্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানের পরীক্ষা চালাতে পারে। এই বিমানটি কখনও জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়নি। তবে, লোপ নুর বিমান ঘাঁটির ব্যাপক নতুন পরিকাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতে মনে করা হচ্ছে যে, এই ঘাঁটিটি ভবিষ্যতে এইচ-২০ কর্মসূচিকে সমর্থন করতে পারে। ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর মতে, ঘাঁটিটির দক্ষিণ অ্যাপ্রনে নির্মিত ৩ টি হ্যাঙ্গারের প্রতিটির পরিমাপ প্রায় ৮০ বাই ৪০ মিটার (২৬২ বাই ১৩১ ফুট)। PLA-র মালিকানাধীন এইচ-৬ কৌশলগত বোমারু বিমানসহ যেকোনও বিমান রাখার জন্য এগুলি যথেষ্ট বড় বলেও জানা গিয়েছে।













