বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে একাধিকবার সোনা (Gold Imports) না কেনার জন্য আবেদন করেছেন। মূলত, সরকার দেশের সোনা আমদানির খরচ কমাতে এবং পারিবারিক সোনাকে পুনরায় সার্কুলেশনে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। এই আবহে একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) আবেদনের ভিত্তিতে ভারতের (India) সত্যিই সোনা আমদানির পরিমাণ কমেছে। ET-র রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মে মাসের আবেদনের পরবর্তী মাসগুলিতে ভারতে সোনার আমদানি হ্রাস পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই মাসের ৩০.৬ টনের তুলনায় এই বছরের মে মাসে আমদানি প্রায় ৪ শতাংশ কমে ২৯.৪ টনে দাঁড়িয়েছে। এরপরে এই পতন আরও ত্বরান্বিত হয়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রধান বহিরাগত গবেষণা সরবরাহকারী হিসাবে সরাসরি কাজ করা মেটালস ফোকাসের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে আমদানি ২০ শতাংশ, জুলাইয়ে ২৩.৭ শতাংশ এবং অগাস্টে প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে।
ভারতে লাফিয়ে কমল সোনার চাহিদা (Gold Imports):
তবে, এই পতন শুধু মোদীর জনপ্রিয়তার কারণেই ঘটেনি। বরং, মে মাসে ভারত সোনা ও রুপার ওপর শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় আমদানি করা সোনার দাম আরও বেড়ে গেছে। এদিকে, সোনার দাম বেশি হওয়ায় চাহিদা এবং আমদানি পরিমাণ উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে। জানিয়ে রাখি যে, আমদানি ব্যয় সামলাতে, গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী ভারতীয়দের সোনা কেনার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত সপ্তাহেও তিনি একই ধরণের আবেদন জানান এবং আমদানি আরও কমার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন আশা করছে যে, এই নতুন আবেদনের ফলে সেপ্টেম্বরে সোনার আমদানি প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পাবে।

আসলে, সরকারের এই প্রচেষ্টার পেছনে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সোনা ক্রেতা এবং তার প্রয়োজনীয় সোনার বেশিরভাগই আমদানি করে। সোনা আমদানিতে ধারাবাহিক হ্রাস বাণিজ্য ভারসাম্য এবং চলতি হিসাবের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও, সরকার চায় যে ভারতীয় পরিবারগুলিতে সঞ্চিত আনুমানিক ৩১,০০০ টন সোনা শুধুমাত্র পড়ে না থেকে উৎপাদনশীল কাজে লাগানো হোক।
আরও পড়ুন: শত্রুদের ঘুম উড়িয়ে আরও বাড়বে ভারতের শক্তি! ১.১০ লক্ষ কোটির সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন কেন্দ্রের
আগে ৯০০ টন পর্যন্ত সোনা আমদানি করা হত: জানিয়ে রাখি যে, চিনের পর সোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম কনজিউমার দেশ ভারত প্রতি বছর প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ টন সোনা আমদানি করে। সরকার এখন চলতি মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। প্রত্যাশা অনুযায়ী আমদানি যদি কমে যায়, তবে তা থেকে একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে যে, সোনা কেনা সীমিত করার জন্য মোদীর নতুন আহ্বান গ্রাহকদের আচরণে কোনও পরিমাপযোগ্য পরিবর্তন আনছে কি না।
আরও পড়ুন: HDFC ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের জন্য সুখবর! লোনের ক্ষেত্রে কমল সুদের হার, জানুন নতুন রেট
কী জানাচ্ছে পরিসংখ্যান: উল্লেখ্য যে, তথ্য থেকে দেখা গিয়েছে, গত মে মাসের পর আমদানির ট্রেন্ডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তবে এটাও দেখা যায় যে, এই পতনটি শক্তিশালী বৃদ্ধির পরেই ঘটেছে। মোদীর মে মাসের আহ্বানের আগে, বছরের শুরুতে আমদানি বেশ ভালো ছিল। জানুয়ারিতে, আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭১.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৯.৪ টনে পৌঁছেছিল। যা এক বছর আগে ছিল ৩৬.৬ টন। ফেব্রুয়ারিতে, আমদানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৩০.৮ টন থেকে ১১৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৬ টনে দাঁড়ায়। মার্চ মাসে এই প্রবণতার বিপরীতমুখী পরিবর্তন ঘটে। সেই সময়ে আমদানি ৩৪.৯ শতাংশ কমে ৫০.৫ টন থেকে ৩৪.৯ টনে নেমে আসে। এপ্রিল মাসে আমদানির অবস্থার উন্নতি হয় এবং তা ৩০.৭ শতাংশ বেড়ে ৩৪.৯ টন থেকে ৪৫.৬ টনে পৌঁছয়।













