বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতের (India) সামরিক বাহিনীর ক্রমশ আধুনিকীকরণ করছে। এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army), নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর জন্য প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার ক্রয় পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের (Rajnath Singh) সভাপতিত্বে সম্পন্ন হওয়া ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (DAC) বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক অনুসারে, এই ক্রয় পরিকল্পনার প্রায় ৯৮ শতাংশ ভারতীয় সংস্থা এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প থেকে কেনা হবে। একদিকে যেমন এটি ৩ বাহিনীরই শক্তি বৃদ্ধি করবে, অন্যদিকে, এই পদক্ষেপ দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকেও উৎসাহিত করবে।
শত্রুদের ঘুম উড়িয়ে আরও বাড়বে ভারতের (India) শক্তি!
সেনাবাহিনী নতুন যানবাহন ও হেলিকপ্টার পাবে: জানিয়ে রাখি যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বেশ কিছু আধুনিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিবিআরএন রিকনেসান্স ভেহিক্যাল, সেলফ-প্রোপেল্ড মেকানিক্যাল মাইনলেয়ার, হাই মোবিলিটি ভেহিক্যাল, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (এএলএইচ), ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম। সিবিআরএন যানবাহনগুলি রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় বা পারমাণবিক হুমকি রয়েছে এমন এলাকা শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে। এদিকে, উচ্চ গতিসম্পন্ন যানবাহন দুর্গম এলাকায় পণ্য পরিবহণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। একসঙ্গে প্রয়োজনে দ্রুত ল্যান্ডমাইন পাতার জন্য মাইন লেয়ার ব্যবহার করা হবে।

উল্লেখ্য যে, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করবে। ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম বঅভিযান চলাকালীন সৈন্যদের বিভিন্ন ধরণের ভূখণ্ড ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: HDFC ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের জন্য সুখবর! লোনের ক্ষেত্রে কমল সুদের হার, জানুন নতুন রেট
নৌবাহিনীর জন্য নতুন রাডার ও গ্যাস টারবাইন: এদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আরুদ্রা রাডার এবং মেরিন গ্যাস টারবাইন সংগ্রহের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। আরুদ্রা রাডারগুলি নৌসেনার বিভিন্ন এয়ার স্টেশনে অবস্থিত পুরনো এয়ার রুট সার্ভিল্যান্স রাডারগুলির জায়গা নেবে। এছাড়াও, মেরিন গ্যাস টারবাইনগুলি যুদ্ধজাহাজ চলাচলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। এর ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলির ওপর নৌবাহিনীর নির্ভরশীলতা কমবে।
আরও পড়ুন: এবার ট্রাই সিরিজে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান? কী পরিকল্পনা ICC-র?
বিমান বাহিনী জ্যামার ও স্মার্ট কার্ড পাবে: জানিয়ে রাখি যে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেশ কিছু প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট এবং হেলিকপ্টারের সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা। বিমান বাহিনীর জন্য গ্রাউন্ড-বেসড মাল্টি-পারপাস জ্যামার তথা GBMPJ কেনা হবে। এই জ্যামারগুলি শত্রুপক্ষের রাডার জ্যাম করতে সাহায্য করবে। যা যুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানকে কৌশলগত সুবিধা প্রদান করবে। এর পাশাপাশি DEFSAC সিস্টেমও বাস্তবায়ন করা হবে। যার মাধ্যমে পুরোনো কাগজের পরিচয়পত্র, পাস ও অনুমতিপত্রের পরিবর্তে একটি RFID (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) বেসড স্মার্ট কার্ড সিস্টেম চালু করা হবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে শনাক্তকরণ ও নিরাপদ প্রবেশের ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও উন্নত হবে।













