‘সরকারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়’, বিগত সরকারদের দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

Updated on:

Updated on:

Suvendu Adhikari announced section of Anti Gunda Law comes into effect from today
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সোমবার নবান্নের (Nabanna) সভাঘরে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা প্রদান অনুষ্ঠান থেকেই রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। একইসাথে তৃণমূল আমলের যাবতীয় ওয়েটিং লিস্টের তালিকা আজই বাতিল ঘোষণা করেছেন তিনি। একইসাথে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে জনকল্যাণ শিবির খোলার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের দুই প্রাক্তন সরকারের তুমুল সমালোচনা করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘আমাদের রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। বিগত সরকারগুলির অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা না মানা, এবং বিপুল পরিমাণে রাজস্বহানি হওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নানান কর্মসূচিতে আমরা যুক্ত না হওয়ার ফলে, আমরা আজকে কার্যত অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া রাজ্যের জায়গায় পরিণত হয়ে গিয়েছিলাম’।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবী, ‘এখনও বেহাল অবস্থায় আছে। এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদেরকে, নুন্যতম আরও এক বছর লাগবে বলে আমি মনে করি। ইতিমধ্যে আমরা ভারত সরকারের সমস্ত স্কিমে যুক্ত হয়েছি। ফলে ভারত সরকারের নানা অর্থ আসতে শুরু করেছে এবং আরও অর্থ আমরা পাব। দ্বিতীয়ত গত বছরের তুলনায় প্রায় আঠারো শতাংশ বাড়তি রেভিনিউ আমাদের সরকারি কোষাগারে আসছে। এছাড়া অনেকাংশে রাজস্ব লিকেজ অর্থাৎ আমাদের যে সমস্ত রেভিনিউ চুরি হতো আমরা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আমাদের রেভিনিউ আরও বাড়বে।’

আরও পড়ুনঃ ‘মোড়ে মোড়ে দাঁড়ানো নয়, গ্রাউন্ড লেভেলের উন্নয়নই অগ্রাধিকার’, সাফ বার্তা অগ্নিমিত্রার 

এদিকে শুরু থেকেই তৃণমূল আমলে সরকারি ভাতা প্রাপকদের তালিকায় বড়সড় গড়মিলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল রাজ্য সরকার। অভিযোগ উঠেছিল স্বজন-পোষণের নামে ভুয়ো তালিকা তৈরীর ব্যাপারেও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন কোথাও কোথাও দেখা গিয়েছে একজন পুরুষ স্বামীহীনতার / বিধবা ভাতা নিয়েছেন ।

তাই শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ, ‘আমরা আগের সরকারের ওয়েটিং লিস্ট বাতিল করে নতুন করে তালিকা তৈরি করব। আমি চাই, যাঁরা আমাদের জনকল্যাণ শিবিরে এসে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের আবেদন, নথি যাচাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগে ভাতা দেওয়া হোক।’

মুখ্যমন্ত্রী এদিন মনে করিয়ে দিলেন, ‘এই সরকারের নীতি হচ্ছে যোগ্য লোকের হাতে, যোগ্য বেনিফিট পৌঁছে দেওয়া। কারণ একটা সরকারের শুধু ভাতা দেওয়া কাজ হতে পারে না। একটা সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান, শিল্প-বাণিজ্য, আধুনিক কৃষি তার নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কাজকে সমান অগ্রাধিকার দিতে হয়। কিন্তু আমরা সামাজিক কল্যাণ, আমাদের নরেন্দ্র মোদি জি শিখিয়েছেন, ‘সেবাই সংগঠন।’ আমরা যে আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করি, পণ্ডিত দিনদয়াল উপাধ্যায় তিনি সবসময় একাত্ম মানববাদের কথা বলেছেন। অর্থাৎ কল্যাণ আমাদের করতে হবে, কিন্তু প্রাপক যেন সঠিক হয়।’