বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ঘুরতে যাওয়ার কথা বললে কারোর পছন্দ পাহাড়, সমুদ্র তো কারোর আবার জঙ্গল। বিশেষ করে ডুয়ার্সের (Dooars) জঙ্গল অনেকেরই প্রিয় ভ্রমণস্থল। তবে প্রায় ২ দশক ধরে ডুয়ার্সের এলিফ্যান্ট করিডোর বন্ধ ছিল। অবশেষে খুলে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই দুটি এলিফ্যান্ট করিডোর (Elephant Corridors)। যদিও দীর্ঘ দু’দশক আগেই কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন-মন্ত্রকের তরফে এই করিডোর দুটি খুলে দেওয়ার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
দু দশক পর খুলছে ডুয়ার্সের এলিফ্যান্ট করিডোর
যেমনটা জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা এই করিডোর দুটি খুলে গেলে মানুষের কোনো রকম হস্তক্ষেপ ছাড়াই হাতিরা যাতে অবাধে চলাফেরা করতে পারবে। আগামী দিনে হাতিদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ করে দিতেই ভুটান পাহাড় বরাবর রেটি-টিটি করিডোর এবং জলদাপাড়া-চিলাপট্টা-বক্সা টাইগার রিজার্ভ-নিমতি করিডোর পুনরুদ্ধার করা হবে।
সূত্রের খবর, ২০০৩-০৪ সালে, বন বিভাগ ডুয়ার্সে প্রধান চারটি এলাকা চিহ্নিত করেছিল। যেগুলোকে বন্য হাতিরা নিয়মিত করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। অনুমোদিত এই দুটি এলাকা ছাড়াও, ধুমচি-টিলি-লঙ্কাপাড়া-বান্দাপানি করিডোর এবং গোরুমারা-খাইরকাটা-ডায়ানা করিডোর এখনও পর্যন্ত পরিবেশ, বন ও বন মন্ত্রকের (MoEF) অনুমোদন পায়নি।
আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়’, বিগত সরকারদের দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
মাত্র কয়েকদিন আগের কথা, গত মাসেই ছিল বিশ্ব হাতি দিবস। সেই সময় উত্তরবঙ্গসহ আশপাশের সংলগ্ন বনাঞ্চলে হাতির অস্তিত্ব সংকট নিয়ে নানান মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। আসলে সময়ের সাথে সাথে হাতির খাদ্য, বাসস্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমনকি তাদের ব্যবহারে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছিলেন বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গিয়েছে হাতিরা উত্তরে একাধিক নতুন মুভমেন্ট রুট ও সাফ করিডোর তৈরি করেছে। আসলে একদিকে দিনের পর দিন বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী হাতির করিডোর বন্ধ থাকার কারণে এবং অন্যদিকে বর্ধিত হাতির সংখ্যার কারণে একাধিক বিপর্যয় দেখা দেয় যার ফলে হাতি চলাচলের পথে বাধা তৈরি হয়।
সেই কারণেই প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া স্বরূপ নিজেদের বাঁচানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজে নিতে শুরু করে হাতিরা। মূলত তারপর থেকেই এই বন্ধ হয়ে থাকা করিডোর গুলি আরও একবার পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেওয়া হতে শুরু হয়েছিল।













