বাংলা হান্ট ডেস্ক : পাহাড়কে ঘিরে একগুচ্ছ পরিকল্পনা সামনে এল মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) উত্তরবঙ্গ সফরে। উন্নয়নের বার্তার সঙ্গেই জিটিএ-র আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতির তদন্তে কাউকে ছাড় নয়, প্রয়োজনে এফআইআর থেকে গ্রেফতারি—কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
উত্তরকন্যা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলায় পাহাড়ে আরও প্রস্তুতি বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এদিন। কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনার কথা এদিন জানা যায় মুখ্যমন্ত্রী থেকে। পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানানো হয়েছে।
প্রশাসনিক বৈঠকের সবচেয়ে কড়া বার্তা এসেছে জিটিএ-কে ঘিরে। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “১১ বোর্ডের টাকা নয়ছয় হয়েছে। পাহাড়ে পানীয় জল, শিক্ষক দুর্নীতি থেকে একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। টাকা লুট হয়েছে।”
এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির ইস্যুতে তদন্ত হবে। এফআইআরও হবে। গ্রেপ্তারিও হবে।”
অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি বেআইনিভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকলে সেই অর্থও ফেরত আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ জিটিএ-র আর্থিক অনিয়ম নিয়ে আগামী দিনে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার হতে পারে।
এদিকে পাহাড়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আর্থিক বরাদ্দও বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। জিটিএ-র বাজেট দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে উন্নয়নমূলক কাজকে আরও গতি দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন : কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ২ হাজার টাকা! পিএম কিষাণের ২৪ তম কিস্তি নিয়ে বড় আপডেট জানুন
শুধু পরিকাঠামো নয়, পাহাড়ের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক সুবিধার কথা জানানো হয়েছে। আয়ুষ্মান কার্ডের আওতায় পাহাড়ের বাসিন্দাদের আনার উদ্যোগ রয়েছে। যাঁরা আয়ুষ্মান প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চা-বাগানগুলি ফের চালু করার জন্য রাজ্য সরকার উদ্যোগ নেবে বলেও জানানো হয়েছে।













