বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে পালাবদলের পরেই টোটো, ই-রিক্সা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কড়া সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও অনেক জায়গায় অবৈধ টোটো, রিক্সার রমরমা দেখা যাচ্ছে। এবার এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যকে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। শুধু বিজ্ঞপ্তি দিলেই হবে না, বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায় আদালত। স্পষ্ট জানিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।
রাজ্যকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট | (Calcutta High Court)
মায়াপুরে বেআইনি টোটোর দাপট ও যানজট নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। মামলাকারীর অভিযোগ, মায়াপুরের ইসকন মন্দির সংলগ্ন ধুবুলিয়া-মায়াপুর রোডে হাজার হাজার লাইসেন্সহীন টোটো চলাচল করে। ফলে রোজকার যানজটের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সহ জরুরি পরিষেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে। আজ এই মামলার শুনানিতেই কড়া নির্দেশ দেয় আদালত।
আরও পড়ুনঃ ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস নিয়ে চাপ বাড়ল অভিষেকের! এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ গোয়েঙ্কারা
এদিনের শুনানিতে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, “মুখ্যসচিব একা কিছু করতে পারবেন না। শুধুমাত্র সরকারি বিজ্ঞপ্তি কিংবা পেপার ওয়ার্ক করলে কাজ হবে না। বাস্তবে তো বেআইনি টোটো, রিক্সা বন্ধ হয়নি।“
এদিন রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, হাইকোর্টের আগের নির্দেশের উপর ভিত্তি করে ৭ অগাস্ট রাজ্যের মুখ্যসচিব একটি নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে লাইসেন্সহীন টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাজ্য ও জাতীয় সড়কে ই-রিক্সা চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে হাইকোর্টে জমা দেওয়া সরকারি তথ্যেই দেখা গিয়েছে, শুধুমাত্র নদিয়া জেলায় ১০,৮০০-র বেশি টোটো চললেও মাত্র ৪৫০০ টোটোর লাইসেন্স রয়েছে। আদালতের দাবি, শুধু নদিয়া নয়, গোটা রাজ্যেই এই অবস্থা।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, রাজ্য পরিবহণ দফতরের নদিয়া জেলা শাখা, মায়াপুর বামনপুকুর পঞ্চায়েত, নদিয়া জেলার পুলিশ সুপার ও স্থানীয় থানার ওসিকে অবিলম্বে যৌথ পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বৈধ এবং অবৈধ টোটো চিহ্নিত করে অবিলম্বে অবৈধ যান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৭ অগাস্ট জারি করা নির্দেশিকা বাস্তবায়নে কী কী দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়ে রাজ্যকে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে আদালত।
রাস্তায় টোটোর দাপাদাপি নিয়ে প্রায়ই সরব হন বহু মানুষ। পালাবদলের পর এই নিয়ে কড়া পদক্ষেপও নিয়েছে বিজেপি সরকার। তবে শুধু সরকারি বিজ্ঞপ্তি নয়, প্রশাসনিক কড়াকড়ির বাস্তব ছবি দেখতে চেয়ে রাজ্যকে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।













