বাংলাহান্ট ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে পাকিস্তানের (Pakistan) একের পর এক দাবির সত্যতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সেই দাবিকেই জোরালোভাবে তুলে ধরতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-নির্ভর ভিডিও (AI Video) প্রকাশ করল পাক সেনা। পাকিস্তানের বায়ুসেনা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে ভারতের বিরুদ্ধে কথিত সাফল্যের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব প্রমাণ বা স্যাটেলাইট ছবি সামনে না এনে এমন অ্যানিমেশন নির্ভর ভিডিও প্রকাশ করায় পাকিস্তানকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে সমালোচনা। নেটদুনিয়াতেও পাক সেনার এই প্রচারকে ব্যঙ্গ করে নানা মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নিজেদের সামরিক সাফল্য তুলে ধরার বদলে উল্টে আন্তর্জাতিক মহলে হাসির খোরাক হয়েছে পাকিস্তান।
ভারতের ৩২ টি বায়ুসেনা ঘাঁটি ধ্বংসের AI ভিডিও বানিয়ে ফের মিথ্যাচার পাকিস্তানের (Pakistan):
পাকিস্তানের প্রকাশিত ‘ফিঁজাও কে পাসবান’ নামের ওই AI ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের পালটা অভিযানে ভারতীয় সামরিক পরিকাঠামোয় বড়সড় ক্ষতি করেছে তারা। ভিডিও অনুযায়ী, ভারতের ৩২টি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পাশাপাশি দুটি S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, চারটি রাফাল, একটি সুখোই-৩০, একটি মিগ-২৯, একটি মিরাজ-২০০০ এবং একটি হেরন ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্যাটেলাইট যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটানো, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করার কথাও দেখানো হয়েছে। এমনকী ভারতের সংসদ ভবন, গুজরাটের কান্ডলা বন্দর এবং বিমানবাহী রণতরী INS বিক্রান্ত-ও ধ্বংস করা হয়েছে বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবিগুলির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি (Pakistan)।
আরও পড়ুন: ওষুধের কারখানা থেকে দোকান; বাদ নেই কিছুই! বাতিল ৮৮০ লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে তুকারাম মুন্ধের দাপট
এই ভিডিও সামনে আসার পরই প্রশ্ন উঠেছে, সত্যিই যদি এত বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে তার উপগ্রহচিত্র বা অন্য কোনও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করছে না কেন পাকিস্তান? সামরিক সাফল্যের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে AI-নির্ভর অ্যানিমেশন ব্যবহার করাকে অনেকেই বিশ্বাসযোগ্যতার বদলে প্রচারের কৌশল হিসেবেই দেখছেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ শুরু হয়েছে। একজন নেটিজেন ঘটনাটিকে ‘কমেডি গোল্ড’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্য এক ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লিখেছেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেটের প্রয়োজন নেই, একটি AI ভিডিও জেনারেটর থাকলেই ইউটিউবে যুদ্ধ জিতে যাওয়া সম্ভব। এই ধরনের মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, পাক সেনার প্রচার কতটা হাস্যরসের বিষয় হয়ে উঠেছে নেটদুনিয়ায়।
🇨🇳💪🇵🇰Chin-Pak Dosti Zindabad
🇵🇰 Pakistani Air Force @DGPR_PAF drops “Fizaon Ke Pasbaan” and the visuals are 🔥
A stunning 3D showcase of Pakistan’s aerial defense strength on Defence Day.
Powered by cutting-edge🇨🇳Chinese defense tech:
✅ JF-17 Thunder
✅ J-10CE
✅ HQ-9BE /… pic.twitter.com/4z7geuPxTW— Shen Shiwei 沈诗伟 (@shen_shiwei) September 7, 2026
অন্যদিকে, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল, তার একাধিক তথ্য ও ভিজ্যুয়াল প্রমাণও প্রকাশ্যে এসেছে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ৭ মে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ভারত। ভারতীয় সেনার দাবি অনুযায়ী, অভিযানে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ও সামরিক পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উপগ্রহচিত্র, ছবি এবং ভিডিওতে পাকিস্তানের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন সামনে আসে। ভোলারি, সারগোধা এবং নুর খান ঘাঁটির রানওয়েতে ক্ষতির ছবি নিয়েও আলোচনা হয়। হ্যাঙ্গার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবিও প্রকাশ্যে আসে। ফলে পাকিস্তানের পালটা দাবির সঙ্গে প্রকাশ্য তথ্যের ফারাক নিয়েই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: আরও বাড়বে পরমাণু শক্তি! এবার সমুদ্রে লুকিয়ে থাকা ইউরেনিয়াম আহরণ করবে চিন
ভারতের পক্ষ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি সামনে এসেছিল আদমপুর এয়ারবেস থেকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি অক্ষত S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। সেই ছবি পাকিস্তানের দাবির সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নের সম্পর্ক তৈরি করে বলে দাবি ভারতীয় মহলের। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের কথিত সাফল্য বোঝাতে AI ভিডিও প্রকাশ করায় পাকিস্তানের প্রচার কৌশল নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচারের লড়াই নতুন কিছু নয়, কিন্তু বাস্তব প্রমাণের পরিবর্তে কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্য ব্যবহার করলে বিশ্বাসযোগ্যতা আরও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। অপারেশন সিঁদুর ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের (Pakistan) পালটা দাবির মধ্যে তাই এখন AI ভিডিও নিয়েই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।













