বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতার রেস্তোরাঁগুলিতে (Restaurants) এবার কড়া নজরদারি পুরসভার। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পরপর অভিযানে এমন কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে, যা রেস্তরাঁগুলির খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। নামী প্রতিষ্ঠানও এই তালিকা থেকে বাদ যায়নি। অভিযানে খাবারে ক্ষতিকর রং ব্যবহার থেকে শুরু করে নোংরা রান্নাঘর, পচা খাদ্যসামগ্রী, খাবারে ছত্রাক এবং পোকামাকড়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
কলকাতার কোন রেস্তোরাঁগুলির (Restaurants) লাইসেন্স সাসপেন্ড ?
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সাত দিনে কলকাতা জুড়ে ১৬৭টি রেস্তরাঁ, খাবারের হোটেল এবং অন্যান্য খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে। সেই তল্লাশিতে ব্যবহারের অনুপযুক্ত প্রায় ১৩০০ কেজি খাবার বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়েছে। নিয়মভঙ্গের অভিযোগে প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানের ফুড লাইসেন্স আপাতত সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এই তালিকায় এমন কয়েকটি পরিচিত নামও রয়েছে, যেগুলি কলকাতার খাদ্যপ্রেমীদের কাছে বহুদিনের চেনা। রিপন স্ট্রিটের ‘করিমস’, পুরসভার আশপাশের ‘নিজামস’, ইএম বাইপাসের ‘শিমলা বিরিয়ানি’ এবং নাগেরবাজারের ‘আরসালান’-এর একটি শাখার বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘বিগ বস রেস্তরাঁ’, ‘বলরাম মল্লিক ও রাধারমণ মল্লিক’, ‘ডন জিওভনি’, ‘মিষ্টিমুখ’, ‘জগবন্ধু মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’ এবং ‘শ্রীহরি ফুড’-এর নামও রয়েছে।
তবে লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমনটা নয়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এটি সাময়িক ব্যবস্থা। খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের প্রশিক্ষণ দিতে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে নতুন করে আবেদন করতে হবে। পরবর্তী পর্যায়ে পরিদর্শনে নিয়ম মেনে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেলে ফের ফুড লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য,অভিযানের সময় রান্না ও খাবার সংরক্ষণের জায়গার অবস্থা বিশেষ ভাবে খতিয়ে দেখেছেন আধিকারিকরা। বেশ কিছু জায়গায় আরশোলা, পোকামাকড় এবং ইঁদুরের উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে খাদ্যে ব্যবহৃত রং নিয়ে। মিষ্টি থেকে শুরু করে বিরিয়ানি—বিভিন্ন ধরনের খাবারে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর রঙিন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি দেওয়ালে রং করার কাজে ব্যবহৃত রঙের মতো উপাদান খাবারে মেশানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শুধু কাঁচামালের মান নয়, রান্নার তেল নিয়েও অনিয়ম ধরা পড়েছে। একাধিক জায়গায় নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি বার পোড়া তেল ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। জনপ্রিয় রেস্তরাঁ হওয়া সত্ত্বেও খাদ্য নিরাপত্তার নিয়মে কোনও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলেই বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন : দু’দিনের ছুটি পেলেই চলুন ডুডুমা! ওডিশার এই জল-জঙ্গল মুগ্ধ করবে আপনাকে
অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া পূর্ববর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, “বিগত দিনের সরকার এসব দেখত না। আমাদের সরকার, জনগণের সরকার। জনগণের স্বাস্থ্য, সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। সব বিভাগকে বলা রয়েছে, সব হোটেল, রেস্তরাঁর খাবারের গুণমান যাচাই করতে হবে। পানীয় জলের মানদণ্ডও দেখা হবে। যাঁদের উতরোতে পারবেন, থাকবেন। যাঁরা পারবেন না তুলে দেওয়া হবে।” এদিকে লাইসেন্স স্থগিতের নোটিস পাওয়ার পরেও মঙ্গলবার কিছু খাবারের দোকান এবং রেস্তরাঁ চালু থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে।













