বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুজোর আগে ‘দুর্গাপূজা’ না ‘শারদোৎসব’, এই শব্দ নিয়েই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কমিউনিস্টদের বইয়ের স্টল দেওয়া নিয়ে পুজো কমিটিগুলিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। একইসঙ্গে সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসন নিয়েও একাধিক অভিযোগ করেন তিনি।
‘দুর্গাপূজা’ না লিখলে স্টল নয়, বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, তাঁর সরকার সব ধর্মের মানুষকে নিজেদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেয়। মুসলিম, বৌদ্ধ, আদিবাসী-সহ সব সম্প্রদায়ের মানুষই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, একদল তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপক হিন্দু ও সনাতন ধর্মকে বেছে বেছে আক্রমণ করছেন।
কপালে তিলক, মাথায় শিখা, গলায় তুলসীর মালা বা গেরুয়া পোশাক পরা নিয়ে কেন আক্রমণ করা হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। এরপর দুর্গাপুজোর নাম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, বামপন্থীরা সনাতন ধর্মকে শুধু সংস্কৃতির বিষয় হিসেবে দেখে। তাই ‘দুর্গাপুজো’ না বলে ‘শারদোৎসব’ বলতে বেশি স্বচ্ছন্দ তারা।
পুজো কমিটিগুলিকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, কমিউনিস্টরা পুজো প্রাঙ্গণে বইয়ের স্টল দিতে এলে সেখানে অবশ্যই ‘দুর্গাপূজা’ লিখতে হবে। ‘শারদোৎসব’ লিখলে কোনও স্টল করতে দেওয়া যাবে না। নকশাল আন্দোলন থেকে শুরু করে কমিউনিস্টদের তৈরি করা ‘দেশবিরোধী’ চিন্তার বীজ উপড়ে ফেলার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।
এরপর সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসন নিয়েও সরব হন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, গরিব মানুষের টাকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার পার্টি অফিস তৈরি করা হয়েছিল। যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিজেদের লোকজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছিল। এমনকি একেকজন সিপিএম নেতার বাড়ি থেকে প্রায় ২০ জন করে চাকরি পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘শরীর থেকে পোশাক সরানোয় ধর্ষণ প্রমাণ হয় না’, রায় বদল হাই কোর্টের, কোন মামলায়?
মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) আরও জানান, শুধু গত ১৫ বছরের নয়, তার সঙ্গে সিপিএমের ৩৪ বছরের শাসনকালও হিসাবের মধ্যে আনা হবে। সেই সময়ের সমস্ত অনিয়মের তালিকা তৈরি করে পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেওয়া হবে। ‘শারদোৎসব’ বা ‘শারদ সংখ্যা’ বলে দুর্গাপুজোকে উল্লেখ করার প্রবণতাও বন্ধ করতে চান বলে জানান তিনি।













