বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বের বহু দেশে সাধারণ মানুষ যখন মূল্যবৃদ্ধি, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সংসারের বাড়তে থাকা খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন সিঙ্গাপুরে একেবারে অন্য ছবি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী (Highest Paid Prime Ministers) ও রাজনৈতিক পদাধিকারীদের বেতন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের (Lawrence Wong) বার্ষিক বেতন ৬৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৩.৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার করা হচ্ছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ২৭ কোটি টাকার কাছাকাছি। নতুন কাঠামো কার্যকর হবে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সিঙ্গাপুর সরকারের যুক্তি, রাজনীতিতে দক্ষ ও যোগ্য মানুষকে আকৃষ্ট করতে হলে বেতন কাঠামোকে বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বেতন দুর্নীতির ঝুঁকিও কমাতে পারে বলে মনে করে সরকার।
এই ৩ দেশের প্রধানমন্ত্রীরা (Highest Paid Prime Ministers) সবচেয়ে বেশি বেতন পান
তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, রাজনৈতিক নেতাদের বেতন এমন একটি বিষয় যা সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিকভাবেই সংবেদনশীল। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরের মধ্যম মাসিক আয় ছিল প্রায় ৫,৭৭৫ সিঙ্গাপুর ডলার। সেই তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কয়েক মিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বেতন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের বক্তব্য, রাজনৈতিক বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ ১,০০০ উপার্জনকারীর আয়কে একটি বেঞ্চমার্ক হিসেবে ধরা হয় এবং জনসেবার বিষয়টি মাথায় রেখে তার উপর ৪০ শতাংশ ছাড়ও থাকে। দীর্ঘ ১৫ বছর রাজনৈতিক পদাধিকারীদের বেতন অপরিবর্তিত থাকার পর এই সংশোধন করা হচ্ছে (Highest Paid Prime Ministers)।
আরও পড়ুন: ২ ঘণ্টা অন্তর মিলছে কলা-আপেল! সবসময় নজর রাখছে টিম, নন্দনকাননে কেমন আছে ৫ ওরাংওটাং?
বেতন বাড়ার পর লরেন্স ওং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আরও স্পষ্টভাবে এগিয়ে যাবেন। তাঁর বর্তমান বার্ষিক বেতন প্রায় ২.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে দাঁড়াবে ৩.৬ মিলিয়নে। তুলনায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত বার্ষিক বেতন ৪ লক্ষ ডলার। অর্থাৎ সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বেতন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেতনের প্রায় সাত গুণ। অন্যদিকে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি-র বার্ষিক বেতন প্রায় ৭১৯,০০০ মার্কিন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল প্রেসিডেন্টের বার্ষিক পারিশ্রমিকও কয়েক লক্ষ ডলারের ঘরে। ফলে বিশ্বের অন্যান্য বড় দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের তুলনায় সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বেতন যে অনেকটাই আলাদা, তা স্পষ্ট।
তবে শুধু বেতনের অঙ্ক দেখলেই পুরো ছবিটা বোঝা যায় না। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে বেতন, ভাতা, সরকারি বাসভবন, নিরাপত্তা, যাতায়াত এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার কাঠামো এক নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক সরকারি বেতন ৪ লক্ষ ডলার। অস্ট্রেলিয়া, জাপান-সহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরাও কয়েক লক্ষ ডলারের বার্ষিক পারিশ্রমিক পান। আবার রাশিয়া ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সরকারি বেতন তুলনামূলক ভাবে অনেক কম হলেও তাঁদের দায়িত্ব, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং সম্পদের হিসাব আলাদা বিষয়। তাই বিভিন্ন দেশের নেতাদের আর্থিক অবস্থান তুলনা করতে গেলে শুধুমাত্র বেতনের অঙ্কের বদলে সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক কাঠামো দেখা জরুরি।

আরও পড়ুন:ব্রিকসের আগেই মেগা চুক্তি! ভারতে উড়বে রাশিয়ার উড়ান, কেনা হবে ১০৫ টি যাত্রীবাহী বিমান
এই তুলনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বেতন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় অনেকটাই কম। বিভিন্ন প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন ও ভাতা মিলিয়ে অঙ্কটি প্রায় ২০ থেকে ২৪ লক্ষ টাকার আশপাশে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের সঙ্গে সরকারি বাসভবন, নিরাপত্তা, সরকারি সফর, চিকিৎসা এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা যুক্ত থাকে। ফলে লরেন্স ওংয়ের প্রায় ২৭ কোটি টাকার বার্ষিক পারিশ্রমিকের সঙ্গে মোদীর বেতন সরাসরি তুলনা করলে ছবির একটি অংশই সামনে আসে। সিঙ্গাপুর অবশ্য তাদের নতুন বেতন কাঠামোকে ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ নেতৃত্ব ধরে রাখার কৌশল হিসেবে দেখছে। বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছর বেতন বৃদ্ধির ফলে তিনি যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা দাতব্য কাজে দান করবেন (Highest Paid Prime Ministers)।













