বাংলা হান্ট ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit 2026) শুরু হতে আর বেশি বাকি নেই। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে (New Delhi) সম্পন্ন হতে চলেছে ব্রিকস গোষ্ঠীর এই গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলন কেবল একটি গতানুগতিক আয়োজন নয়, বরং বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির জন্য এটি একটি প্রধান কূটনৈতিক মঞ্চ হিসাবেও বিবেচিত হয়। প্রায় ২ দশক আগে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত (India) ও চিন এই গোষ্ঠীটি তৈরি করেছিল। বর্তমানে এটি ১১ টি দেশের একটি শক্তিশালী জোটে পরিণত হয়েছে। মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পর এখন ইন্দোনেশিয়াও এর অংশ হয়ে গেছে। এদিকে, এত বিশাল সদস্যসংখ্যা নিয়ে ব্রিকস এখন বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ভারত বরাবরই ব্রিকসকে উন্নয়নশীল দেশগুলির কণ্ঠস্বরকে জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি মাধ্যম হহিসাবে বিবেচনা করে এসেছে। তবে, এবার ভারত একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। মূলত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য এবং গোষ্ঠীটির বিশাল আকার সামাল দেওয়া সহজ হবে না।
নয়াদিল্লিতে সম্পন্ন হতে চলেছে ব্রিকস সম্মেলন (BRICKS Summit 2026):
সম্প্রসারণের পর ব্রিকসের নতুন শক্তি: ব্রিকস এখন বিশ্বের বৃহত্তম তেল ও গ্যাস উৎপাদক এবং প্রধান গ্রাহক দেশগুলি নিয়ে গঠিত। এতে দ্রুত বর্ধনশীল উৎপাদনমুখী অর্থনীতির দেশগুলিও অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সাপ্লাই চেন এবং প্রযুক্তিতে ব্রিকসের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমতাবস্থায়, ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য সচেষ্ট রয়েছে দিল্লি। এই লক্ষ্যে, লেনদেনের খরচ কমানো এবং শুল্ক বিধিমালা সহজ করার কাজ চলছে। ২০২৬-৩০ সালের জন্য একটি অ্যাকশন প্ল্যান প্রস্তুত করা হচ্ছে।
All set for BRICS 2026!
@BricsIndia2026 https://t.co/nXqqoBmoAm
— Narendra Modi (@narendramodi) September 10, 2026
ভারত-চিন-রাশিয়া কূটনৈতিক সমীকরণ: জানিয়ে রাখি যে, এই শীর্ষ সম্মেলনটি ভারতের জন্য একটি বড় কৌশলগত সুযোগ। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) বৈঠকের পরপরই ভারত, চিন ও রাশিয়ার নেতারা আবারও একত্র হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের আলোচনার দিকে সারা বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে। এই কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যেমন চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মতো জটিলতা রয়েছে, অন্যদিকে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সেক্টরে রাশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। যদিও ব্রিকস মঞ্চ এই বিরোধগুলি সম্পূর্ণরূপে সমাধান করতে পারবে না; তবে এটি অবশ্যই ভারতকে তার কৌশলগত অংশীদারিত্বগুলিকে আরও ভালোভাবে পরিচালনা করার সুযোগ করে দেবে।
আরও পড়ুন: এখনও পর্যন্ত বন্ধ ২.৫ কোটি কার্ড! কোন রেশন গ্রাহকদের করতে হবে সারেন্ডার? জানুন এখনই
ডলারের বিষয়ে ভারতের সতর্ক কৌশল: উল্লেখ্য যে, এবার মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনার বিষয় হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে, ভারত এই বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তাদের লক্ষ্য আন্তঃসীমান্ত লেনদেনকে সস্তা ও সহজ করা, কোনও ডলার-বিরোধী অভিযান শুরু করা নয়। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও বলেছেন যে, ভারত ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে কোনও অভিন্ন মুদ্রার পক্ষে নয়। বরং, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও লেনদেন ব্যবস্থার উন্নতির ওপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা RBI আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের জন্য ব্রিকস দেশগুলির ডিজিটাল মুদ্রা সংযুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছে।
জ্বালানি ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে: জানিয়ে রাখি যে, এত বড় এবং বৈচিত্র্যময় একটি গোষ্ঠীর মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তোলা কঠিন। তবে, জ্বালানি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে প্রত্যেকের স্বার্থই জড়িত। এই গোষ্ঠীতে এখন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইরান এবং রাশিয়ার মতো প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারত এবং চিনও বৃহত্তম তেল গ্রাহকদের মধ্যে অন্যতম। তাই, ভারতের মনোযোগ জ্বালানি নিরাপত্তা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্থায়িত্বের ওপর থাকবে। এদিকে, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি নিরাপদ বাজার চায়। অন্যদিকে গ্রাহক দেশগুলি সাশ্রয়ী জ্বালানি চায়। এমন পরিস্থিতিতে, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।













