বাংলা হান্ট ডেস্ক: স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে Apple সবসময় পছন্দের শীর্ষে থাকে। শুধু তাই নয়, Apple (iPhone Duo)-এর প্রযুক্তি এবং কৌশল মুগ্ধ করে টেক প্রেমীদের। এছাড়াও, এই সংস্থা নতুন কোনও প্রযুক্তি সবার আগে বাজারে আনতে চায় না। বরং, যখন অন্যান্য সংস্থাগুলি ওই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাগুলি তুলে ধরে, তখন Apple বাজারে প্রবেশ করে নিজের দাপট দেখায়। এই আবহেই বহু বছরের অপেক্ষার পর, Apple তাদের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন iPhone Duo লঞ্চ করেছে। ভারতে এই ফোনটির দাম রাখা হয়েছে ২,৯৯,৯০০ টাকা। যেখানে গ্লোবাল মার্কেটে এর প্রারম্ভিক মূল্য ১,৯৯৯ ডলার। এদিকে, Samsung এবং Huawei-র মতো ব্র্যান্ডগুলি দীর্ঘদিন ধরেই এই বাজারে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তবে, Apple-এর এই পদক্ষেপ শুধু একটি প্রোডাক্ট লঞ্চ নয় বরং তার লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারীদের জন্য বড় উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেরিতে এসেও বাজিমাত Apple-এর প্রথম ফোল্ডিং ফোন iPhone Duo-র!:
কী জনিয়েছেন অ্যানালিস্টরা: জানিয়ে রাখি যে, ইতিমধ্যেই মার্কেট অ্যানালিস্টরা iPhone Duo-র দেরিতে আসাকে দুর্বলতা হিসাবে না দেখে ভালো সুযোগ হিসাবে দেখছেন। TV 9-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, IDC-র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেন যে, Apple হয়তো দেরিতে এসেছে, কিন্তু তারাই নিয়মকানুন তৈরি করে। Samsung-এর মতো ব্র্যান্ডগুলি মানুষকে ফোল্ডেবল ফোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। এখন Apple-কে শুধু সেইসব গ্রাহকদের লক্ষ্য করতে হবে, যাঁরা অতিরিক্ত দাম দিয়েও নতুন কিছু ব্যবহার করতে ইচ্ছুক। এদিকে, ফরেস্টারের অ্যানালিস্ট দীপঞ্জন চ্যাটার্জীও মনে করেন যে, Apple সবসময় প্রোডাক্টের ত্রুটিগুলি সমাধান হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। যখন বাজার কোনও প্রোডাক্ট সম্ভাবনা দেখতে শুরু করে, তখন Apple প্রবেশ করে এবং পুরো বিভাগটিকেই বদলে দেয়।

Samsung এবং Huawei-র দাপট কী কমবে: উল্লেখ্য যে, এই বাজারে প্রথম প্রবেশকারী হিসাবে Samsung-এর
একটি শক্তিশালী সুবিধা রয়েছে। সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট প্রাচীর সিং মনে করেন যে, Samsung-কে শীর্ষস্থান থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না। Samsung-এর পোর্টফোলিও বেশ শক্তিশালী। কিন্তু আসল প্রতিযোগিতা দেখা যাবে চিনের বাজারে। চিন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ফোল্ডেবল ফোনের বাজার। যেখানে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত Huawei-র প্রায় ৮০ শতাংশ শেয়ার থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত Apple এই প্রতিযোগিতার বাইরে ছিল। তবে এবার iPhone Duo-র উন্মোচনের ফলে, সংস্থাটি এখন Huawei-র একচেটিয়া আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার মতো অবস্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: ডলারের পরিবর্তে রুপিতে হবে বাণিজ্য? ১১ দেশের সঙ্গে মিলে মেগা প্ল্যান ভারতের
ফোল্ডেবল ফোনের বাজার গতি পাবে: এদিকে, Apple-এর এই নতুন পদক্ষেপে ফোল্ডেবল ফোনের বাজারকেও গতি দেবে। পিপি ফোরসাইটের অ্যানালিস্ট পাওলো পেসকাতোরে জানান, Apple তার iPhone ব্যবসায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। রিসার্চ ফার্ম IDC-র অনুমান অনুযায়ী, Apple এই বাজারে আসার প্রথম ১২ মাসে প্রায় ১ কোটি iPhone Duo ইউনিট বিক্রি করতে পারে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের একটি উল্লেখযোগ্য রেভিনিউ আয় করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অ্যানালিস্টরা এটাও দাবি করছেন যে, ২০২৭ সালের মধ্যে Apple বিশ্বের বৃহত্তম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বিক্রেতা ব্র্যান্ডে পরিণত হবে।
আরও পড়ুন: এখনও পর্যন্ত বন্ধ ২.৫ কোটি কার্ড! কোন রেশন গ্রাহকদের করতে হবে সারেন্ডার? জানুন এখনই
ডিজাইনের বৈশিষ্ট্য: জানিয়ে রাখি যে, নতুন iPhone Duo-র বেস ২৫৬ জিবি মডেলে রয়েছে একটি বড় ৭.৬-ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ স্ক্রিন এবং সঙ্গে একটি ৫.৪-ইঞ্চি বাহ্যিক ডিসপ্লে রয়েছে। সংস্থাটি ফোনটির হিঞ্জ, পুরুত্ব এবং মাল্টিটাস্কিং অভিজ্ঞতার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করেছে। ফোনটি বিভিন্ন কোণে অর্ধেক ভাঁজ করা অবস্থাতেও একই সঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারে। বাজারে আসার আগে থেকেই এর দাম ২,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ব্যাপক জল্পনা ছিল। তবে, ১,৯৯৯ ডলার মূল্য নির্ধারণ করে Apple এটিকে আরও দামি ফোল্ডেবল ফোনগুলির থেকে কিছুটা নিচে রেখেছে। জেরোনিমোর মতে, Apple একই সঙ্গে দাম বাড়ানোর পাশাপাশি ফোনটিকে আরও সহজলভ্য করে তুলেছে।













