বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন নয়াদিল্লির দিকে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ভারত (India) মণ্ডপমে বসতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। ২০২৬ সালে BRICS-এর সভাপতিত্ব করছে ভারত, আর সেই দায়িত্বের অন্যতম বড় পর্ব হিসেবেই এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। দুই দিনের এই বৈঠকে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতা এক মঞ্চে হাজির হবেন। ইতিমধ্যেই সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সম্মেলনস্থলের প্রস্তুতি নিয়ে এক ঝলক তুলে ধরেছেন।
ব্রিকস সম্মেলনের (BRICS Summit) প্রস্তুতির এক ঝলক সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
এই সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতির দিকে। তাঁদের পাশাপাশি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও যোগ দেবেন বলে জানা গিয়েছে। BRICS (BRICS Summit)-এর সম্প্রসারিত সদস্যগোষ্ঠীতে এখন ১১টি দেশ রয়েছে। ফলে এবারের বৈঠকে শুধু ভারত, রাশিয়া, চিনের মতো পুরনো সদস্যদের বিষয়ই নয়, নতুন সদস্যদের স্বার্থ ও মতামতও গুরুত্ব পাবে।
আরও পড়ুন: চিন-আমেরিকা-রাশিয়া নয়! এই দেশের প্রধানমন্ত্রী পান সবথেকে বেশি বেতন, কত নম্বরে রয়েছে ভারত?
সম্মেলনের আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় উঠে আসতে পারে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, শক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিশ্ব পরিচালনায় বহুপাক্ষিকতার ভূমিকা—সবই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। ভারতের এ বছরের BRICS সভাপতিত্বের মূল ভাবনার মধ্যেও রয়েছে ‘resilience, innovation, cooperation and sustainability’। অর্থাৎ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই প্রশ্নেই জোর দেওয়া হবে। সম্মেলনের শেষে ‘New Delhi Declaration’ প্রকাশের কথা রয়েছে।
BRICS-এর মূল বৈঠকের পাশাপাশি সম্মেলনের ফাঁকে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও মোদীর বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়েও BRICS-এর অভিন্ন অবস্থান তৈরির চেষ্টা হতে পারে।

আরও পড়ুন: ২ ঘণ্টা অন্তর মিলছে কলা-আপেল! সবসময় নজর রাখছে টিম, নন্দনকাননে কেমন আছে ৫ ওরাংওটাং?
সব মিলিয়ে এবারের BRICS সম্মেলন (BRICS Summit) ভারতের জন্য কেবল একটি আন্তর্জাতিক বৈঠক আয়োজনের ঘটনা নয়, বরং কূটনৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শনেরও বড় সুযোগ। ভারত মণ্ডপমে রাষ্ট্রনেতাদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত পর্যায়ে। ১২ সেপ্টেম্বর সদস্য দেশগুলির নেতাদের নিয়ে বৈঠক, উদ্ভাবনী প্রদর্শনী, পারিবারিক ছবি এবং প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নৈশভোজের মতো কর্মসূচি রয়েছে। পরদিন অংশ নেবেন BRICS-এর অংশীদার ও আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরাও। বিশ্ব অর্থনীতি, যুদ্ধ-সংঘাত এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক মহলে একাধিক টানাপোড়েন চলছে, ঠিক সেই সময় দিল্লির এই সম্মেলন BRICS-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা কতটা শক্তিশালী হতে পারে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে চলেছে।













