বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের (Nandigram By Election) আগে ফের সামনে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। তবে এবার মমতাকে প্রার্থী করার দাবি উঠেছে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের দিক থেকেই। মমতা নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে তাঁরা সরে দাঁড়াবেন বলেও জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে এর পিছনে শুধুই মমতার প্রতি সমর্থন নয়, রয়েছে বড় রাজনৈতিক হিসেবও।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে (Nandigram By Election) মমতা দাঁড়ালে সরে যাবেন ঋতব্রতরা
ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল নেতা আখরুজ্জামান বলেন, নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেতার স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। তাই তিনি যদি নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন, তাহলে তাঁর জন্য তাঁরা প্রার্থী পদ ছেড়ে দেবেন।
মমতাকে নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন মদন মিত্রও। তাঁর দাবি, মমতা এবার নন্দীগ্রামে নিজে লড়াই করুন এবং সব শক্তি নিয়ে ভোটে নামুন। তাহলে ২০২১ সালে মমতা কেন হেরেছিলেন, ভোটচুরি বা মেশিনের সমস্যার অভিযোগ সত্যি কি না, সেটাও সামনে আসবে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন (Nandigram By Election) হবে ৬ অক্টোবর। কিন্তু এখনও ঠিক হয়নি জোড়াফুল প্রতীক এবং ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’ কারা। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন। শনিবার সকাল ১১টায় কমিশনের সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের এবং দুপুর ১২টায় মমতাপন্থী তৃণমূলের বৈঠক রয়েছে। ফলে উপনির্বাচনের আগে কমিশন এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
মমতাকে নিয়ে কেন এই কৌশল?
ঋতব্রত শিবির সূত্রে খবর, কমিশন যদি উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে নির্দল প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছে তারা। কিন্তু সেই প্রার্থী বড় ব্যবধানে হেরে গেলে ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে মমতাপন্থী তৃণমূলও নন্দীগ্রামে প্রার্থী নিয়ে সমস্যায় রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র করও এবার সেখানে দাঁড়াতে রাজি নন। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন এবং এই আসনে হিন্দু ভোটের প্রভাবও বেশি।
তাই মমতাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী (Nandigram By Election) হওয়ার চ্যালেঞ্জ দিয়ে তাঁকেই রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ঋতব্রত শিবির, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। বিদ্রোহী শিবির তৈরি হওয়ার সময় ঋতব্রতই মমতাকে পরামর্শদাতা হিসেবে চেয়েছিলেন। এবার সেই মমতাকেই ভোটের ময়দানে নামার চ্যালেঞ্জ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ যাদবপুরে নিয়োগ নিয়ে স্বজনপোষণের অভিযোগ! সিবিআই তদন্ত চায় ABRSM
উল্লেখ্য, জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত ঋতব্রত শিবির পাবে কি না, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। তাই তার আগেই নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করে রাখতে চাইছে বিদ্রোহী শিবির (Nandigram By Election)।













